Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

জরিপের ফল

সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পিএম

সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি ৫৪ শতাংশ আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ৬৬ শতাংশ

শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Advertisement

সরকার পরিচালনার ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমতের চিত্র উঠে এসেছে একটি জাতীয় জরিপে। সেখানে ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট। তবে সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টির হার তুলনামূলক কম, ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

স্বাধীন জনমত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডপলার রিসার্চ বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’-এ এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসালটিংয়ের অর্থায়ন ও সহায়তায় পরিচালিত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। 

জরিপে অংশ নেওয়া ২১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ১২ দশমিক ১ শতাংশ কোনো মতামত দেননি বা উত্তর দিতে চাননি।

এ সংক্রান্ত ‘অ্যাপ্রুভাল রেটিং সার্ভে ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ডপলার রিসার্চ বলছে, সরকারের ১৮০ দিনের কাজ নিয়ে জনমত যাচাইয়ের জরিপে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাকে বলা যায় ‘সতর্ক আশাবাদ’। মানুষ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের কাজে সন্তুষ্ট, কিন্তু দেশ কোন পথে চলছে তা নিয়ে তারা বিভক্ত। আর দৈনন্দিন জীবনে উন্নতি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তারা এখনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। 

জরিপে বলা হয়েছে, বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা ও আয়ভেদে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্টির হার ৬১ দশমিক ৭ থেকে ৭০ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। দেশের আটটি বিভাগেই এই হার ৬২ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি।

সরকারের কাজে সন্তুষ্টির তুলনায় প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্টির হার বেশি। এমনকি অন্য দলের সমর্থকদের মধ্যেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন।

তবে সরকারের সামগ্রিক কাজের মূল্যায়ন প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় কম। সরকারের কাজকে ভালো বলেছেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং খারাপ বলেছেন ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ।

দেশ সঠিক পথে চলছে বলে মনে করেন ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন দেশ ভুল পথে চলছে। ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেননি।

জরিপে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে এবং ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ নিত্যপণ্যের দামকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানের বিষয় উঠে এসেছে।

সরকারের কাজের মূল্যায়নেও এসব বিষয়ে অসন্তোষ দেখা গেছে। ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা, ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ জ্বালানি ও গ্যাস এবং ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ নিত্যপণ্যের দামের ক্ষেত্রে সরকারের কাজকে খারাপ বলেছেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা আশাবাদ রয়েছে। ৪৬ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছেন, এক বছর আগের তুলনায় তাদের পরিবারের অবস্থা খারাপ হয়েছে। তবে আগামী ১২ মাসে পরিবারের অবস্থা ভালো হবে বলে আশা করছেন ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ।

এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ, করনীতির প্রতি ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতি ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা সমর্থন জানিয়েছেন।

বিরোধী নেতাদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে জরিপে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের কাজকে ভালো বলেছেন ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়কের কাজকে ভালো বলেছেন ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক নাকি ভুল পথে যাচ্ছে—এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল ডপলারের এই জরিপে। উত্তরে ৪৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ বলেছেন, দেশ সঠিক পথে যাচ্ছে। ভুল পথে যাচ্ছে মনে করেন, ৩৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। আর ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ কোনো উত্তর দেননি। 

বিএনপির সমর্থকদের ৬৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, জামায়াত সমর্থকদের ৪৪ শতাংশ ও এনসিপি সমর্থকদের ৫৫ দশমিক ২০ শতাংশ বলেছেন, দেশ সঠিক পথে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ক্ষেত্রে এই হার সর্বনিম্ন—৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পার হয়েছে গত রোববার। 

এ উপলক্ষে এই জনমত জরিপ পরিচালনা করেছে ডপলার। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ধারাবাহিকতায় জন্ম নেওয়া এই প্রতিষ্ঠান জরিপের জন্য ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশনের এক জরিপে অংশ নেওয়া ১০ হাজার ৪১৩ জনের সঙ্গে সম্প্রতি টেলিফোনে যোগাযোগ করেছিল। 

তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জন ডপলারের জরিপে অংশ নিয়েছেন। এই নমুনায় দেশের ৬৪টি জেলার ৪৮৯টি ওয়ার্ড ও গ্রামের প্রতিনিধিত্ব ছিল।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

মালয়েশিয়ায় কর্মী হওয়ার যোগ্যতা টাকা নাকি দক্ষতায়?

মালয়েশিয়ায় কর্মী হওয়ার যোগ্যতা টাকা নাকি দক্ষতায়?

মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ভয়-লজ্জা-কুসংস্কার দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মানসিক অসুস্থতা ঘিরে ভয়-লজ্জা-কুসংস্কার দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গিয়াস উদ্দিন

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন গিয়াস উদ্দিন

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও রেলভিত্তিক আইসিডিতে বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও রেলভিত্তিক আইসিডিতে বিনিয়োগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

রাজউকের সাবেক ২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজউকের সাবেক ২ কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় কর্মী হওয়ার যোগ্যতা টাকা নাকি দক্ষতায়?

মালয়েশিয়ায় কর্মী হওয়ার যোগ্যতা টাকা নাকি দক্ষতায়?

দ্রুত রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রোসাটমের

দ্রুত রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রোসাটমের

আবু সাঈদ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল পথিকৃৎ: ত্রাণমন্ত্রী

আবু সাঈদ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল পথিকৃৎ: ত্রাণমন্ত্রী

সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম