Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

আইটি ট্রেনিং সেন্টারগুলো হবে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র: আইসিটি মন্ত্রী

Advertisement

Icon

বাসস

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

আইটি ট্রেনিং সেন্টারগুলো হবে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র: আইসিটি মন্ত্রী

যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: মন্ত্রণালয়

Advertisement

আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোকে উদ্ভাবন, স্টার্টআপ এবং বিনিয়োগের কার্যকর কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বুদ্ধিদীপ্ত ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির কোনো বিকল্প নেই।

আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোকে আমরা সেই জাতীয় সক্ষমতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

শনিবার (২২ আগস্ট) যশোরে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেয়া নয়; প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করা।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে প্রচলিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদাভিত্তিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একজন প্রশিক্ষণার্থী কত ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিলেন বা কতটি সনদ পেলেন—এটিই সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি হতে পারে না। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি চাকরি পেলেন কি না, ফ্রিল্যান্সিংয়ে যুক্ত হলেন কি না, উদ্যোক্তা হলেন কি না এবং অর্জিত দক্ষতা বাস্তবে কাজে লাগাতে পারলেন কি না—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। 

স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আইসিটি মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী দিনের ডিজিটাল অর্থনীতিতে চাকরিপ্রার্থী তৈরির পাশাপাশি চাকরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।’

মন্ত্রী জানান, আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোতে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, কারিগরি সহায়তা, ব্যবসা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ তৈরি করা হবে। একইসঙ্গে, সরকার ইনকিউবেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক ধারণা যাচাই, পণ্য ও সেবা উন্নয়ন, বাজারে প্রবেশ, ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।  

মন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, বিনিয়োগকারী এবং ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া-ইনোভেশন-ইনভেস্টমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা সম্ভব।

সরকারি অব্যবহৃত স্থাপনা ও অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য পূরণে আইটি সেন্টারগুলোর অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, ইউটিলিটি, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মানকে একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নির্দেশিকাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোর সেবার মান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, তরুণদের কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে, নতুন উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ সৃষ্টি হবে এবং প্রযুক্তি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে। 

উল্লেখ্য, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ সৃষ্টি, উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় প্রশিক্ষণের বিষয়, কারিকুলাম ও দক্ষতার মান নির্ধারণে শিল্পখাতের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয় নিয়মিত হালনাগাদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারগুলোর কার্যক্রমকে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা, ইনকিউবেশন ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা মডিউলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী, কোর্স, প্রশিক্ষক, উপস্থিতি, মূল্যায়ন, ফলাফল, সনদ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী ফলাফল ডিজিটালভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের আওতাধীন দেশের বিভিন্ন আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের কার্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী, কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক করার লক্ষ্যে এ নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়। এর মাধ্যমে এসব সেন্টারের জন্য একটি অভিন্ন, মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সদস্য অনুপম বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুর রহমান।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

আট হাজার ডাকঘর

আট হাজার ডাকঘর

জ্বালানি সংকট সাময়িক, ধৈর্য ধরতে হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট সাময়িক, ধৈর্য ধরতে হবে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

আইএইএ-এর ৭০তম সাধারণ অধিবেশন পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

এবার ১০ টাকা কেজিতেই সারা দেশে পণ্য পাঠানোর সুযোগ

এবার ১০ টাকা কেজিতেই সারা দেশে পণ্য পাঠানোর সুযোগ

দেশে সক্রিয় সিম ১৯ কোটি ১০ লাখ

দেশে সক্রিয় সিম ১৯ কোটি ১০ লাখ

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত না হতে বললেন মন্ত্রী

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত না হতে বললেন মন্ত্রী

আরও পড়ুন

আজ খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আজ খুলনা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

গ্রীষ্মের আগেই চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

গ্রীষ্মের আগেই চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

স্পেনে কর্মসংস্থানের ফাঁদ লিবিয়ায় জিম্মি যুবক, ‘নির্বাক দর্শক’ পুলিশ

লিবিয়ায় জিম্মি যুবক, ‘নির্বাক দর্শক’ পুলিশ

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্পিকার

আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না জনগণ: স্পিকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম