ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন
সংঘাত-নৈতিক অবক্ষয়ের বিস্তার ঠেকাতে মহানবীর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পক্ষকালব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ সময় তিনি বলেছেন, আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি তিনি অগণিত সালাম ও দরুদ জানান।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ মানবজাতির হেদায়েত, মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার আগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় ঘটনা। তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ।
রাষ্ট্রপতি বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্বমানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তার চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পরম মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন মমতাশীল। নারী, শিশু, প্রতিবেশী ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, অঞ্চল কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে কোনো মানুষকে অবজ্ঞা করা যাবে না উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গঠনই ছিল মহানবী (সা.)-এর অন্যতম শিক্ষা।
তিনি বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার চরিত্রে উত্তম।’ মহান আল্লাহ রাসূল (সা.)-এর অনুপম চরিত্রের প্রশংসা করেছেন। মহানবী (সা.)-এর এই পবিত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও শিক্ষা ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে মানবমর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
মহানবী (সা.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা সর্বজনীন, চিরন্তন ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তার মাধ্যমে মানবজাতির শান্তি, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার অনুপম বিধান ও আদর্শ ইসলাম ধর্মকে পরিপূর্ণতা দান করেছে। মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা প্রকাশের উপায় হলো কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এমপি, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখ, গণমাধ্যমকর্মী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা।

