সংসদে রুমিন ফারহানা
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ-গ্যাসের হাহাকার, মূল্যস্ফীতির কারণে চরম অস্বস্তিতে মানুষ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি সংকট, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবস্থা, তাতে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলব। গ্যাস আর বিদ্যুতের ব্যাপারে দুষ্টু লোকেরা বলে ‘টুকু আসে টুকু যায়’। বিদ্যুৎ কখন আসে আর কখন যায়, কতক্ষণ থাকে তা নাকি দেশের সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতেই পারেন না। একদিকে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের হাহাকার চলছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ মূল্যস্ফীতির কারণে চরম অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রাথমিক অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি ছিল আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি খাতের নিশ্চয়তা বিধান করা। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যঙ্গ অথবা বাকচাতুরতা দিয়ে আসল বিষয়টি ঘুরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমন একাধিক রয়েছেন, ঠিক তেমনি দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও মন্দ হতো না, কারণ বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই ‘ভালো’ অবস্থায় গিয়ে ঠেকেছে।
কর্মসংস্থান ও শিল্প খাতের চরম মন্দা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার সময় এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিশাল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইতোমধ্যেই ৬২ হাজারের বেশি মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০টিরও বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, যাদের বর্তমানে চাকরি আছে তাদের চাকরি আর কতদিন টিকে থাকে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
বাজারের চিত্র তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে মানুষ পণ্য কিনতে গেলে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি খুঁজে পাওয়া যায় না। ডিম ও মিনিকেট চালের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ যে কতটা কষ্টে আছে, তা টিসিবির পণ্য কেনার পেছনে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

-69e1dc4e4a296-69e4310da6b3b-69f420971d573-69f5780b1c184-6a907944b7c56.webp)