Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

চীনে সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী

শ্রমবাজার উপযোগী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

তিনটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৫ এএম

শ্রমবাজার উপযোগী কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এ জনগোষ্ঠীকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তিতে পরিণত করা সম্ভব।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলনে' তিনি এ কথা বলেন।

জিয়াংসি প্রাদেশিক সরকার ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং চীনের পক্ষে জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ঝেং পেংউ এতে স্বাক্ষর করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা অবশ্যই শিল্প খাত ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যবহারিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ও চীনের সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, চীনের বিশ্ববিদ্যালয়, বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতা বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। একই সঙ্গে শিল্পের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদষ্টো মাহদী আমিন বলেন, চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই সহযোগিতা শুধু আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে কার্যকর করাই মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষাকে দক্ষতায়, দক্ষতাকে কর্মসংস্থানে এবং কর্মসংস্থানকে সুযোগে পরিণত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় পক্ষ বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা-শিল্প সংযোগ, বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে গবেষণা, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর এবং কারিগরি শিক্ষা প্রশাসকদের প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত কর্মসূচিতে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।

যে তিনটি সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন হলো: সম্মেলনে বাংলাদেশ-চীন কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতার আওতায় তিনটি নতুন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্যে চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন ও জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক ফ্যান হংহুই। বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পেই হংওয়েই।

বাংলাদেশ চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+স্কিল ডেভেলপমেন্ট সহযোগিতা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এবং জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ঝেং পেংউ।

সম্মেলনে জিয়াংসি প্রদেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে বাংলাদেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, জিয়াংসি প্রাদেশিক শিক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম