Logo
Logo
×
   

জাতীয়

জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধ ও দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: ক্যাব

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধ ও দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই: ক্যাব

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাবের উদ্যোগে ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রাপ্ততা এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে’ আয়োজিত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: যুগান্তর

জ্বালানি খাতে লুটপাট বন্ধ এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উদ্যোগে ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রাপ্ততা এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা।

ক্যাবের সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া, কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ এবং ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান প্রমুখ।  

সভাপতির বক্তব্যে এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান বলেন, জ্বালানি হলো সবচেয়ে বেশি ক্রুশিয়াল। প্রথম যে জায়গাটা, সেটি হলো, আপনি যদি জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চান, সেটার একটা টাইম লাগবে নিঃসন্দেহে। কিন্তু এখানে যে চুরি হচ্ছে, সেই লুণ্ঠন বন্ধ করতে তো কোনো সমস্যা নেই। আমি যদি চুরি বন্ধ করি, তাহলে তো একটু কমফোর্ট হবে। 

তিনি বলেন, আজকে লোডশেডিং হচ্ছে, সেই লোডশেডিংয়ে আমার তো বিল কমার কথা, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে কত? এভারেজ ২০ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু বিল তো বেড়েছে ১০০ শতাংশর ওপরে। আমাদের প্রত্যেকের কিন্তু গত দুই এক মাসে বিল দ্বিগুণ হয়েছে। তাহলে লোডশেডিংয়ের ফলে আপনার তো বিদ্যুৎ কম দেওয়া হয়েছে, সেখানে তো ২০% বাড়লেও আপনার বাড়ার কথা না, সমান সমান থাকার কথা। তাহলে এই যে জিনিসগুলো হচ্ছে, এটা তো লুণ্ঠন, সেটা বন্ধ করুক।  

এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে আমদানিনির্ভরতা বাড়ানো হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। সংকট ঘনীভূত হওয়ার পর স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার বদলে সরাসরি জ্বালানি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কিনা, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। 

ক্যাব সভাপতি বলেন, সরাসরি জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঝুঁকি থাকে। তাই সংকটের প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে চুরি-লুটপাট বন্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। 

তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪০০-এর বেশি ইন্ডাস্ট্রি এবং আরএমজি সেক্টর আজ চরম সংকটের মুখে রয়েছে। অনেক অর্ডার অন্য দেশে শিফট হয়ে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের বেকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন খাতে অরাজকতা দেখা দেয়, যার প্রভাব সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর পড়েছে। সবজি ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহন খরচ ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তিনি বলেন, অতীতে আমদানি নির্ভরতার ওপর অতিরিক্ত ফোকাস করা হলেও বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের সিস্টেম লস এবং প্রায় ২০ শতাংশ চুরি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। 

ওষুধ নীতির পরিবর্তনের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, অতীতে ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প আজ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে এবং দেশের চাহিদার ৯৮ ভাগই পূরণ করছে। কিন্তু হঠাৎ করে এসেনশিয়াল ড্রাগ লিস্ট থেকে বহু ওষুধ বাদ দেওয়ায় দেশের সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাছাড়া বাজারে নকল ও ভেজাল খাবারের ছড়াছড়ির ফলে এ অসংক্রামক ব্যাধি যেমন ক্যান্সার, কিডনি রোগ ও হৃদরোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। 

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা যে গণতন্ত্র বৈষম্যমুক্তির কথা বলেছিলাম, আমি সরকারকে অনুরোধ করব, তারা একটু ভেবে দেখুক। তারা যে চশমা চোখে দিয়ে দেশ চালাচ্ছে, তাতে কি জনস্বার্থ দেখছে? না ব্যক্তি-গোষ্ঠী স্বার্থ দেখছে?   

তিনি বলেন, আমি আজকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে শুধু এই কথা বলব, ওই চশমা ছুড়ে ফেলে দিন। প্রকৃত চোখ দিয়ে দেখুন এবং সাদা চশমা দিয়ে জনগণের কণ্ঠ বোঝার চেষ্টা করুন এবং জনগণের স্বার্থে আইন প্রণয়ন করে তার সাথেই ভূমিকা রাখুন। এইটা যদি না করেন, তাহলে ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিতে হবে। আমি আশা করব, আমরা আর কোনো সংকট দেখতে চাই না, আমরা চাই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন হবে এবং ওষুধের নিয়ে যে সংকট তৈরি হচ্ছে, যেভাবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাদ দিয়ে এবং মূল্য বাদ দেওয়া হয়েছে বিশেষ গোষ্ঠীর সাথে, সেইটাকে বাদ দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় তালিকা প্রণয়ন এবং দাম নির্ধারণ করা হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম