পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির বড় চাপ তৈরির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন গত ১১ বছর সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় দীর্ঘদিন পর বেতন সমন্বয়ের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক। তাছাড়া নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। ফলে বাজারে বড় ধরনের বৈষম্য বা আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা নেই।
রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের চামড়া খাতের অগ্রগতি নিয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। অস্ট্রেলিয়ান সরকার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ফ্ল্যাক্সার পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেম। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় না হওয়ায় বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাদের আয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হওয়ায় একবারে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ বাজারে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। এ কারণে পে-স্কেলকে কেন্দ্র করে পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও নেই। বাণিজ্যমন্ত্রীর মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন নয়, বাজারে পণ্যের সরবরাহ, আমদানি পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এসব বিষয় সমন্বিতভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মুক্তাদির বলেন, ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে বা কমলে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে। তিনি জানান, টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চলছে। একই সঙ্গে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে কিনা, তা নজরদারি করা হচ্ছে। চিনির বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যতম বড় রিফাইনারি মেঘনা গ্র“পের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি রয়েছে।
চামড়া শিল্পে বড় সংস্কারের উদ্যোগ : দেশের চামড়া শিল্পকে আবারও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের চামড়া খাতের অগ্রগতি নিয়ে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শিল্পটি প্রত্যাশিত সুফল পায়নি। সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) সমস্যাকে চামড়া শিল্পের বড় বাধা হিসাবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নতুন বিশ্বমানের সিইটিপি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সিইটিপি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজার ঘনমিটার নির্ধারিত সক্ষমতার বিপরীতে কার্যকরভাবে প্রায় ১৪-১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন করা সম্ভব হচ্ছে। বড় ট্যানারিগুলোতে নিজস্ব ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ছোট ট্যানারিগুলোকে কেন্দ্রীয় সিইটিপির সঙ্গে সমন্বয় করে শতভাগ কমপ্লায়েন্সের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আলোচনায় অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিনটন পবকে, ফ্ল্যাক্সার সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জু, সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানসহ চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, শ্রমিক প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।
