Logo
Logo
×
   

জাতীয়

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে যারা

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে যারা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের সামনে একদিকে রয়েছে বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালিক স্বপনের সময় সিএমএসডি দুর্নীতিবাজদের আখড়ায় পরিণত হয়। তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদাররা ওষুধ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সুবিধাভোগী, দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার নামধারী লুটেরাদের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কিছু সুবিধাভোগী হাত মিলিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতিবাজ ঠিকদারদের নিরাপত্তা দিতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। 

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সিএমএসডির ঠিকাদার মো. হারুন আর রশিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ থেকে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সিএমএসডির বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদকে অভিযোগকারী খালেদ সাইফুল্লা নাঈম যুগান্তরকে বলেন, আমি একজন জুলাই যোদ্ধা। বিগত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়-এখনো ঘরে ঘরে দুর্নীতিবাজরা আনন্দ-ফুর্তি করছে। তাদের কাছ থেকে বর্তমান সরকারের কিছু সমর্থক সুবিধা নিচ্ছে। তিনি বলেন, ১০ আগস্ট দুদকে অভিযোগ করেছি। তখন সংস্থাটিতে চেয়ারম্যান ও কমিশনার ছিলেন না। নতুন চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে তদন্তের আবেদন জানাব। দুদকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, চেয়ারম্যানের সামনে অভিযোগ ফাইল আকারে উপস্থাপন করব। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সেই আলোকে তদন্ত করা হবে।

অভিযোগে বলা হয়, গত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের একেকটি সংস্থায় একেকজন রাজত্ব করেছেন। ঠিকাদার হারুন আর রশিদ সিএমএসডিতে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের লাঠিয়াল হিসাবে কাজ করেছেন। এতে মন্ত্রী ও ঠিকাদার লাভবান হলেও বঞ্চিত হয়েছে দেশের মানুষ। অর্থ অপচয় হয়েছে দেশের। 

জানা গেছে, দরপত্র ছাড়াই সিএমএসডিতে একচেটিয়া ওষুধ, আইসিইউ বেড, সাধারণ বেড, ভেনটিলেটর, অপারেশন টেবিল লাইট, মনিটর, আলট্রাসাউন্ড মেশিন, এমআর আই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতি নিুমানের মালামাল সরবরাহ করা হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে সিএমএসডির ঠিকাদার মো. হারুন আর রশিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল এবং খুদেবার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। তবে হারুন আর রশিদের পক্ষে হুমায়ুন কবির নামে এক ব্যক্তি কল করে জানান, হারুন আর রশিদ দেশে নেই। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি দেশেই আছেন এবং গণমাধ্যমে এড়িয়ে চলছেন।

জানা যায়, ঠিকাদার হারুন আর রশিদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়ায়। গরিব ঘরের সন্তান হারুন ঢাকায় কর্মসংস্থানের জন্য এসে জাহিদ মালিক স্বপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। সিএমএসডিতে ঠিকাদারি করে তিনি অর্ধশত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সরঞ্জামাদি সরবরাহ না করে তিনি ভুয়া ভাউচারে বিল তুলে নিয়েছেন। মন্ত্রীর পছন্দের ঠিকাদার হওয়ায় সিএমএসডির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার বিল আটকাতে পারেননি। কমিশন নিয়ে তারা ভুয়া বিল পাশ করে দিয়েছেন।

দুদকে করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকার রামপুরার বনশ্রী জি ব্লকের মোনটিয়ার প্লেসে ৪ ও ৫নং ফ্ল্যাটের মালিক হারুন আর রশিদ। বনশ্রীর বিভিন্ন ব্লকে তার আরও পাঁচটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসবের দাম প্রায় ১৫ কোটি টাকা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের বিপরীত পাশে বিএমএ ভবনের তৃতীয় তলায় ৩৫ নম্বর দোকানের নাম হারুন এন্টারপ্রাইজ। এর দাম কয়েক কোটি টাকা। এটি শোরুম হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আফতাবনগরে তার নামে-বেনামে ৪-৫টি প্লট রয়েছে। মৌচাক মার্কেটের বিপরীতে ফরচুন টাওয়ারে তার একটি দোকান রয়েছে। এর দাম প্রায় এক কোটি টাকা। রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়িও, যার দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা। গাজীপুরে হরুনের ২০ কাঠার একটি এবং পাঁচ কাঠার একটি প্লট রয়েছে। এসবের দাম প্রায় ১২ কোটি টাকা। গ্রামের বাড়িতে তিনি তিনতলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন। গ্রামে ৫০ একর ধানের জমি কিনেছেন। বাগান ও একাধিক পুকুর রয়েছে। এসবের দাম ৭-৮ কোটি টাকা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম