Logo
Logo
×
   

জাতীয়

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের যুগান্তর কার্যালয় পরিদর্শন

সাংবাদিকদের নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

সাংবাদিকদের নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান

যুগান্তর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম। ছবি: যুগান্তর

সাংবাদিকদেরকে নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আবদুল হাকিম। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকরা শ্রম আইন, প্রেস কাউন্সিল আইনসহ নিজেদের পক্ষে থাকা আইন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন। এ কারণে কোন নিউজ করা যাবে, কতটুকু করা যাবে, কোনটি করা যাবে না—সেটি নিয়ে তারা দ্বিধায় থাকেন। তিনি সাংবাদিকদেরকে তাদের কাজের সীমা ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

বিচারপতি আবদুল হাকিম বলেছেন, দেশে হাজার হাজার আইন আছে। প্রতিষ্ঠান আছে। আইন দিয়ে কিছুই হবে না যদি বাস্তবায়নকারীরা সতর্ক না হোন। তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেছেন, চলুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আপনাদের সাহায্য ছাড়া জাতীয় প্রেস কাউন্সিল কাজ করতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দৈনিক যুগান্তর কার্যালয় পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। 

দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার এতে সভাপতিত্ব করেন। যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর, ডেপুটি এডিটর আসিফ রশীদ, নগর সম্পাদক মিজান মালিক এতে অংশ নেন। যুগান্তরের রিপোর্টিং, অনলাইন, মাল্টিমিডিয়া, সম্পাদকীয় ও ফিচার বিভাগের সাংবাদিকরা এতে উপস্থিত ছিলেন। 

প্রেস কাউন্সিলের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে কে এম আবদুল হাকিম বলেন, ১৫ সদস্যের বোর্ডে সংসদ সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক, সংবাদপত্র মালিকদের প্রতিনিধি থাকেন। অভিযোগসংক্রান্ত শুনানিতে সদস্যদের ডেকে খুব একটা পাওয়া যায় না। ভুক্তভোগীর কোনো অভিযোগই শেষ করা যাবে না যদি আপনাদের সহযোগিতা না পাই।

সংবাদিকদেরকে পেশাদারিত্বে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক সুপ্রিম কোর্ট বারের ৯ বারের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি যখন কোর্টে আসতেন তখন সাধারণ আইনজীবীর মতোই আচরণ করতেন। তিনি যে পূর্ব বাংলার প্রধানমন্ত্রী কিংবা এতো বড় নেতা ছিলেন সেটির প্রভাব বিচারাঙ্গনে পড়ুক সেটি তিনি চাননি। 


প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানকে যুগান্তরে স্বাগত জানিয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, আমি আমার ৪৭/৪৮ বছরের সাংবাদিকতায় কখনোই প্রেস কাউন্সিলে যাইনি। প্রতিষ্ঠানটির এতো গুরুত্ব সেটি অনেকেরই অজানা। স্বাধীনতার এতো বছরেও প্রতিষ্ঠানটি সাংবাদিকদের আকর্ষণ করতে পারেনি। তবে আজকে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান যুগান্তরে এসে প্রমাণ করলেন—সাংবাদিকদেরও প্রেস কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটা জরুরি। প্রতিষ্ঠানটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন বলেন, আমাদেরকে ইথিকস বজায় রেখে স্ব স্ব কাজ করতে হবে। সেটি বজায় না রাখার কারণে কাঙিক্ষত সাফল্য ধরা দেয় না। আবার আমাদের রাষ্ট্র, রাষ্ট্রীয় আইন ও সামাজিক বিধানগুলোর কারণেও অনেক সময় সঠিক সাংবাদিকতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার আমাদের হয়তো জাতিগতভাবেই ভালো কিছু করার তাগিদ কম। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো কিছু করা কঠিন। তবে জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদেরকে সঠিক সাংবাদিকতাটুকু করে যেতে হবে। এক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলসহ প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবাদিকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশের খুব কম সাংবাদিকই প্রেস কাউন্সিলকে গ্রাহ্য করেন।

যুগান্তরের যুগ্ম সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর বলেন, দেশের প্রেস কাউন্সিলের কোনো চেয়ারম্যান এই প্রথম কোনো পত্রিকা হাউস পরিদর্শনের তাগিদ উপলব্ধি করলেন। বিচারপতি আবদুল হাকিম যে, নিজের কাজটাকে কত ভালোবাসেন এটি তার প্রমাণ। তার নেতৃত্বাধীন কাউন্সিল সত্যিই সাংবাদিকতার জন্য আশাব্যাঞ্জক কিছু করবে বলে আমরা আশাবাদী। 

লেজুরভিত্তিক সাংবাদিকতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বিএম জাহাঙ্গীর বলেন, সাংবাদিকরা দলবাজিতে ব্যস্ত। এটি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য বড় বাধা হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ পেশায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।            

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম