বিদ্যুতের লোকসান আরও বাড়ছে, কী করবে সরকার?
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি পড়ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় একদিকে বাড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে লাফিয়ে বাড়ছে সরকারের লোকসানের বোঝা। চলতি অর্থবছরে ৪৫ হাজার কোটি টাকা লোকসানের যে হিসাব ধরা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রভাবে তা ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এদিকে ইন্দোনেশিয়া কয়লা কমিয়েছে। এ কারণ কয়লা দাম ও পরিবহণ ব্যয় বাড়েছে; ফলে বিদুৎ উৎপাদনের উপর প্রভাব পড়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহারের জন্য প্রতি বছর বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে দেড় কোটি টন কয়লা আমদানি করে।
পিডিবি জানিয়েছে, গত বছর ইন্দোনেশিয়া কয়লা উত্তোলন ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়াসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে। তাই প্রতি টন কয়লা এখন ১১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত ঠেকেছে। এ কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম আগের চেয়ে বাড়বে।
পিডিবির একাধিক কর্মকর্তারা জানান, গত জুনে বিদ্যুতের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর ধারণা করা হয়, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের লোকসান আগের চেয়ে কমবে। কিন্তু সেই লোকসান এখন আরও বাড়তে পারে। গ্যাস সংকটের কারণে সম্প্রতি সরকার ফার্নেস অয়েল দিয়ে চার হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, বিদ্যমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে দেশের জনগণ এবং সরকারকে সাশ্রয়ী হতে হবে। দেশে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়লেও আগামী কয়েক মাস বেশি দামে তেল এবং এলএনজি কিনে শিল্প কারখানা চালু রাখতে হবে। তবে শীতকালে কিছুটা লোডশেডিং দিয়ে সেই অর্থ সাশ্রয় করতে পারে সরকার। এ বিষয়ে জনগণের সহায়তা দরকার।
