Logo
Logo
×
   

জাতীয়

সংসদে অর্থমন্ত্রী

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১,৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ১,৩০০ প্রকল্পে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার

আগের সরকারের আমলে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই ও সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে সরকার। এসব প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি মামলা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এর ফলে এসব ঋণের দায় পরিশোধে বর্তমান সরকারকে বড় ধরনের চাপ বহন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বিষয় বিচারাধীন এবং অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে, আমরা প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছি।’

আমির খসরু জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এসব প্রকল্প পৃথকভাবে পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। অনেক প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে, আবার অনেকগুলো রয়েছে মধ্যবর্তী পর্যায়ে।

প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই করে ইতোমধ্যে কিছু প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সেগুলো বাতিলের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক প্রকল্প বাদ দিচ্ছি। আবার এমন কিছু প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আমাদের তা সম্পন্ন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

এসব প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট আর্থিক দায়, বিশেষ করে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে নেওয়া ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। আগের সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এত অল্প সময়ে বাংলাদেশ এর আগে এত বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়নি। এসব ঋণ পরিশোধ করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে।’

সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি মৌলিক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, এগুলো হলো—অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা বা রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করা।

তার অভিযোগ, আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাদের অধিকাংশ প্রকল্পে অর্থের যথাযথ ব্যবহার, বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান কিংবা পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করা হয়নি।’

জনগণের অর্থ বিনিয়োগ করে এমন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে সরকার চায়, যেগুলো থেকে পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। পর্যাপ্ত সুফল ছাড়া অতিরিক্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি করে—এমন বিনিয়োগ থেকে সরকার বেরিয়ে আসতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, আগের সময় থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আরও বেশ কিছু আর্থিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে কথিত অনিয়ম এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে সৃষ্ট ঋণের দায়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহির্বিশ্বের এই সংকট দেশের বিদ্যমান কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, ‘আজ সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সব দায় বহন করতে হচ্ছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সময়কে আরও কঠিন করে তুলেছে।’

তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমির খসরু।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি অর্থের বিনিয়োগ থেকে জনগণের জন্য সুফল নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বর্তমানে এই চারটি নীতির ভিত্তিতে যে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম