রাষ্ট্রপতিকে পেয়ে আবেগাপ্লুত ঠাকুরগাঁওবাসী
এটিএম সামসুজ্জোহা, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২ পিএম
রাষ্ট্রপতিকে পেয়ে আবেগাপ্লুত ঠাকুরগাঁওবাসী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মুষলধারে বৃষ্টি আর প্রতিকূল আবহাওয়াও বাধা হতে পারেনি হাজার হাজার মানুষের আবেগের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলায় প্রথম পা রাখতেই ঠাকুরগাঁও রূপ নেয় উৎসবের শহরে।
২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাগরিক সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ পরিণত হয় মানুষের মহাসমুদ্রে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির মুখে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষা শুনে পুরো মাঠ ফেটে পড়ে করতালির গর্জনে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে বিশেষ হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটিসহ স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতারা ফুল দিয়ে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
এরপর স্টেডিয়াম থেকে সড়কপথে সার্কিট হাউসে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতির সম্মানে তাকে সশস্ত্র ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করেন এবং বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে তাঁতিপাড়ায় পৈতৃক বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম নেন তিনি।
দুপুর থেকেই শরতের মেঘলা আকাশ থেকে বৃষ্টি নামলেও তা উপেক্ষা করে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, দিনাজপুরের বীরগঞ্জসহ ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সব বয়সি মানুষ ছুটে আসেন প্রিয় নেতাকে বরণ করতে। বিকাল ৩টা ২৭ মিনিটে ধর্মীয় গ্রন্থের বাণী পাঠ ও সংগ্রামী জীবনের ওপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে সংবর্ধনার সূচনা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায়’ পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ হুমায়ুন কবির ও জালাল উদ্দিন আহমেদ। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন জিন্নাতুন নেছা ও সেলিমা আক্তার।
সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে বিকাল ৫টা ২৩ মিনিটে প্রধান অতিথির বক্তব্য শুরু করার আগে ২৪ জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান তুলে দেন রাষ্ট্রপতি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সহাস্যে স্থানীয় ভাষায় বলে ওঠেন- ‘মুই জানু তোমরা মোক ভালোবাসেন, তোমরা ক্যাঙ্গাতি আছেন?’—মুহূর্তেই পুরো মাঠে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের জোয়ার। সংবর্ধনা কমিটি থেকে তাকে ‘গণতন্ত্রের কালপুরুষ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, সংসদ সদস্য ডা. আবদুস সালাম, জাহিদুর রহমান ও মনজুরুল হকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মুহাম্মদ শহীদ উজ জামান।
বিকাল ৫টা ৪৮ মিনিটে অনুভূতিঘন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ নাগরিক সংবর্ধনার সমাপ্তি ঘটে। রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিভিন্ন তোরণ ও ফেস্টুনে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো জেলাকে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বিকালে তিনি তার জন্মস্থান ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক।
