কৃষি, ডেইরি ও পোলট্রি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে সরকার
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, ডেইরি ও পোলট্রি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। হিমাগার নির্মাণসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক কর্মকাণ্ডে এ ঋণ দেওয়া হবে।
দেশের সব তফশিলি ব্যাংকের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসা. ফরিদা ইয়াসমিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা সুসংহত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৬০ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ঋণের আওতায় পোল্ট্রি ও ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুদামজাত ও হিমাগারে সংরক্ষিত কৃষিপণ্যের বিপরীতেও নিয়ম অনুযায়ী ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
তিনি জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হিমাগারসহ কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে। এ লক্ষ্যে গত ৬ জুলাই জারি করা এসিডি-১ সার্কুলার নম্বর-২-এর মাধ্যমে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এই তহবিলের আওতায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিমাগার নির্মাণের পাশাপাশি শস্য ও ফসল উৎপাদন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষি ও সেচযন্ত্রপাতি এবং আয় উৎসারী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো মূল্য শৃঙ্খলকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের জন্য আরও একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৮ জুন জারি করা এসিডি সার্কুলার নম্বর-০১-এর মাধ্যমে গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে পল্লী ঋণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সরকারের আশা, এসব পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের কার্যকর ব্যবহার কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা সুসংহত করতেও এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

-69d79e78d9ff2-6a9d79381dbc8.jpg)