ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেম-পুরোহিতরা ৩ ক্যাটাগরিতে মাসিক সম্মানী পাবেন, কে কত?
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানির হার নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নীতিমালায় প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি, সহকারী ধর্মীয় ব্যক্তি এবং সেবা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আলাদা হারে মাসিক সম্মানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা ৩ ক্যাটাগরিতে সম্মানী পাবেন।
প্রথম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক বা পালক। প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে তাদের মাসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।
দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজক বা পালককে সহকারী ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে মাসে ৩ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।
তৃতীয় ক্যাটগরিতে রয়েছেন মসজিদের খাদেম। তিনি মাসে ২ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন।
নীতিমালায় নির্ধারিত সম্মানী সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হবে এবং অর্থ বিভাগের আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে এর প্রক্রিয়াকরণ করা হবে।
এ ছাড়া ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিটি মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য একটি পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এটিই সংশ্লিষ্ট উপাসনালয়ের একক পরিচিতি নম্বর হিসেবে বিবেচিত হবে।
সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের তদারকির দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কার্যক্রম তদারকি করবেন।
কোনো সম্মানিভোগী ব্যক্তি কর্মচ্যুত হলে বা স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলে এবং তার স্থলে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট উপাসনালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কমিটিকে জানাতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সম্মানিভোগীর তথ্য হালনাগাদ করে ডাটাবেজে প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
নীতিমালার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক ভূমিকার প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


