সাবেক মন্ত্রী ওসমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে নতুন টিম
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
দুদক। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, নিয়োগে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে নতুন দলনেতা নিয়োগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আগের অনুসন্ধান দলের সদস্যদের বহাল রেখে দলনেতা পরিবর্তন করে মো. রাশেদুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ইয়াফেস ওসমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তার ছেলে ইশরার ওসমানের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে মো. সলিমুল্লাহকে জাতীয় জীবপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (এনআইবি) মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ছাড়া এনআইবির দুই কর্মকর্তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে ছুটিতে থাকা অবস্থায় দুটি বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।
দুদকের নথিতে বলা হয়, এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য আগেই একটি টিম গঠন করা হয়েছিল। ওই টিমের দলনেতা মোহাম্মদ সিরাজুল হক উপপরিচালক পদ থেকে অবসর-পরবর্তী ছুটিতে যাওয়ায় তার পরিবর্তে নতুন দলনেতা নিয়োগের প্রয়োজন হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্ববর্তী অনুসন্ধান টিমের অন্য সদস্যদের বহাল রেখে উপপরিচালক মো. রাশেদুল ইসলামকে নতুন দলনেতা করা হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে নতুন দলনেতাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইয়াফেস ওসমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের ছেলের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানকে সরকারি ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও প্রকল্পের দায়িত্ব বণ্টনে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, সরকারি অর্থ ব্যয়ের তথ্য, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

