যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর বিমানের সেই কর্মকর্তার বদলি
বিমানবন্দর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) কার্গো শাখায় কর্মরত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মঈন উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কার্গো কার্যক্রমে অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন শাখা থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক আদেশে মো. মঈন উদ্দিন (পি-৩৬৭৩৯)-কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো শাখা থেকে বদলি করে ফার্মগেট, ডিজিএস, মতিঝিল, ঢাকা-এ পদায়ন করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (Stand Release) হিসেবে অব্যাহতি পেয়েছেন। তাকে মঙ্গলবারের (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসন শাখার মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয় ও বিপণন) স্বাক্ষরিত ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে মো. মঈন উদ্দিনকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
অভিযোগ ঘিরে আলোচনার মধ্যে বদলি বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রমে অনিয়ম, পণ্য ছাড়, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিশেষ করে কার্গো শাখায় দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এর মধ্যে মো. মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগের কথা প্রকাশ্যে আসে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে সরিয়ে অন্যত্র পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।
যুগান্তরের প্রতিবেদনেও উঠে আসে কার্গো শাখার নানা অনিয়ম বিমানবন্দরের কার্গো কার্যক্রম ঘিরে বিভিন্ন সময়ে পণ্য খালাস, নিরাপত্তা, নথিপত্র যাচাই, দায়িত্ব বণ্টন এবং পণ্য ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনায় কখনো সংশ্লিষ্ট সংস্থা, কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তৎপরতার কথাও জানা গেছে।
সম্প্রতি কার্গো শাখার বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পরপরই মো. মঈন উদ্দিনকে কার্গো শাখা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত হবে কিনা, প্রশ্ন
মঈন উদ্দিনকে কার্গো শাখা থেকে সরিয়ে অন্যত্র পদায়ন করা হলেও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না এ প্রশ্নও উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বদলি করে দিলেই কার্গো শাখায় অনিয়মের অভিযোগের সমাধান হবে না।
অভিযোগের সঙ্গে যদি সরকারি সম্পদ, রাজস্ব, পণ্য নিরাপত্তা কিংবা বিমানবন্দরের অপারেশনাল নিরাপত্তার বিষয় জড়িত থাকে, তাহলে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
বিশেষ করে কার্গো এলাকায় পণ্য প্রবেশ থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, স্ক্যানিং, নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমোদনের পর পণ্য ছাড় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো. মঈন উদ্দিনের বদলির আদেশে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো উল্লেখ নেই। প্রশাসনিক কারণেই তাকে বদলি করা হয়েছে, নাকি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বদলির আদেশ অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর অপরাহ্নে স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি পাওয়া এই কর্মকর্তাকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
কার্গো শাখায় অনিয়মের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও নজরদারি আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।


