Logo
Logo
×
   

জাতীয়

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম

সমাজকল্যাণমন্ত্রীর সঙ্গে নরওয়ের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন। সাক্ষাৎকালে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারী শিক্ষা, জেন্ডার সমতা অর্জন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্র ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

এ ছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন, তৈরি পোশাক খাত, কেয়ার গিভিং, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কার্বন ট্রেডিং, উত্তরাধিকার আইন এবং ডিএনএ ল্যাব কার্যক্রম আধুনিক ও শক্তিশালীকরণসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী নরওয়েকে বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে নরওয়ে সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও সব ধরনের উন্নয়ন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যার অংশ হিসেবে তৃণমূল নারীদের জীবনমান ও দক্ষতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে তাদের বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সিড মানি প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে কর্মজীবী মায়েদের কষ্ট লাঘবে দেশব্যাপী ডে-কেয়ার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।’

এ সময় নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন গত দুই বছরে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং তৈরি পোশাক শিল্পে বাংলাদেশি নারীদের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জলবায়ুগত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওই অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের চলমান জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারী অধিকারকে প্রাধান্য দিয়ে নারীদের নামে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করছেন। যেখানে প্রতি পাঁচ সদস্যের জন্য একটি করে কার্ড প্রদান করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের কোনো খরচ নয়, এটি মূলত একটি কার্যকর ও টেকসই সামাজিক বিনিয়োগ। ফ্যামিলি কার্ড থেকে প্রাপ্ত অর্থকে নারীরা পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়, সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয়, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনাসহ ক্ষুদ্র সঞ্চয় কাজে ব্যয় করতে পারবেন।’

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘বর্তমান বিশ্বে দক্ষ কেয়ার গিভারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে দক্ষ কেয়ার গিভার তৈরি ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়, এ লক্ষ্যে তিনি নরওয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের গ্রামীণ নারীদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নরওয়েসহ ইউরোপের বাজারে রপ্তানির বিষয়েও সহায়তার আশা প্রকাশ করেন।’

একপর্যায়ে মন্ত্রী ডিএনএ ল্যাব আধুনিকায়নে নরওয়ের কারিগরি সহায়তা চাইলে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এতে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম