Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

প্রিপেইড মিটার বাতিল ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

প্রিপেইড মিটার বাতিল ও বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি

সংগঠনের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুতের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি এবং প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রাহকদের পকেট কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ‘বিদ্যুৎ গ্রাহক অধিকার রক্ষা জাতীয় কমিটি’।

অবিলম্বে এই দুর্নীতি ও হয়রানিমূলক প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাতিল করে পূর্বের ডিজিটাল মিটার ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

তাছাড়া ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করে প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্প কার স্বার্থে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলো প্রশ্ন তোলেন তারা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের নেতারা। দেশের ৩১ জেলা থেকে আগত নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব এড. পলাশ কান্তি নাগ। বক্তৃতা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক এড. মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে চলেছে। সিন্ডিকেটের কৌশলে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের দুর্নীতি ও লুটপাটের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জনস্বার্থবিরোধী প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, গ্রাহকদের ডিজিটাল মিটার খুলে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার বসানো হচ্ছে। মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট চার্জের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া মিটার নষ্ট হলে চড়া দামে তা কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাছাড়া ছুটির দিনে বা রিচার্জ ফুরিয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং সার্ভার ডাউন বা সামান্য ভুলে মিটার ব্লক হয়ে যাওয়ার কারণে গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগ করে আরও বলা হয়, প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের ডিজিটাল মিটার পরিবর্তন করে প্রিপেইড মিটার লাগানোর পেছনে ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের ঘোষিত ২৯ হাজার কোটি টাকা—মোট ৪৪ হাজার কোটি টাকা অপ্রয়োজনীয় খাতে ধ্বংস করা হচ্ছে। এই অর্থ বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে ব্যয় করার আহ্বান জানান তারা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ৪ দফা দাবি জানানো হয়। তাহলো-

১. বিদ্যুৎ গ্রাহক ভোগান্তি ও দুর্নীতির প্রিপেইড মিটার অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং পূর্বের ডিজিটাল মিটার ফেরত দিতে হবে।

২. বিদ্যুতের মূল্য কমাতে হবে এবং বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট হিসাবসহ শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে।

৩. প্রিপেইড মিটার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতৃবৃন্দ ও গ্রাহকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

৪. বিদ্যুৎ খাতকে ব্যক্তি মালিকানায় বা নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।

দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম