শামীম ওসমানদের ছোড়া গুলি পায়ে লাগে, নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসা হয়নি: জবানবন্দিতে সাক্ষী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ কাউসার আহমেদ জবানবন্দি দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে কাউসার বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অন্যরা। শামীম ওসমানদের ছোড়া গুলি তার পায়ে লাগে। আহত অবস্থায় তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশ ছিল চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য। সে কারণে তিনি সেদিন খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা পাননি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এই জবানবন্দি দেন কাউসার। তিনি গেজেটভুক্ত ‘গ’ শ্রেণির আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি।
জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন বেলা পৌনে দুইটার দিকে চাষাড়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর আক্রমণ চালান। আক্রমণকারীদের মধ্যে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদ ছিলেন। তাদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল। তাঁদের ছোড়া গুলি তার বাঁ পায়ে লাগে।
পায়ে গুলি লাগার পর রাস্তায় পড়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, এরপর কে বা কারা তাকে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। শামীম ওসমান চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, চিকিৎসা না করার জন্য। সেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় তাকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়।
সেদিন নারায়ণগঞ্জে অনেকে এই মামলার আসামিদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। তিনি বলেন, সেদিন সুজন নামের একজন নিহত হন। তার বাড়ি বন্দর এলাকায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ ছিলেন। তার নেতৃত্বে উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে হতাহত করেন। তাকে গুলি করে আহত করাসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের হতাহত করার জন্য এই মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান কাউসার।
এই মামলার ১২ আসামির সবাই পলাতক।


