Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

রোহিঙ্গাদের কেন ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না-প্রশ্নে যে উত্তর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

রোহিঙ্গাদের কেন ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না-প্রশ্নে যে উত্তর দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

Advertisement

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরনার্থীদের নিজ দেশে ফেরাতে প্রায় এক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখনো সফল হয়নি বাংলাদেশ। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ যেখানে পারছে না, সেখানে মালয়েশিয়া কীভাবে পারছে— এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরকে। উত্তরে তিনি দেশে এতদিন অগণতান্ত্রিক সরকার থাকাটাকেই কারণ হিসেবে দেখালেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘প্রোট্র্যাক্টেড রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: দ্য সার্চ ফর এ কমপ্রিহেনসিভ অ্যাপ্রোচ’ শীর্ষক দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেছেন, মিয়ানমার সরকার শেখ হাসিনা সরকারের দুর্বলতা জানত। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনায় শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারেনি তৎকালীন সরকার।

বছরের পর বছর ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।বলেন, রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এই অবস্থাকে গ্রহণযোগ্য বা স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই। এটি একটি দীর্ঘায়িত জাতীয় চাপ।বাংলাদেশ এই সংকট তৈরি করেনি এবং একা এর সমাধান করাও সম্ভব নয়।

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, মানবিক দায়িত্বশীলতাকে যেন কোনোভাবেই অসীম বা অনির্দিষ্টকালের দায়িত্ব হিসেবে ভুল বোঝা না হয়। সংকট কাটাতে কেবল ত্রাণ সাহায্য যথেষ্ট নয়, বরং মিয়ানমারকেই এর স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় রোহিঙ্গা কৌশল প্রণয়ণ কমিটির মাধ্যমে সরকারের নীতি-নির্ধারণী ক্ষেত্রে একটি বড় ও নির্ণায়ক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল সাধারণ কোনো কমিটি নয়; বরং এটি প্রথমবারের মতো দেশের কূটনৈতিক, মানবিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কাঠামোর অধীনে নিয়ে এসেছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করায় রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব বহুপক্ষীয় প্লাটফর্মের শীর্ষ এজেন্ডায় নিয়ে আসতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।চীনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারদের সহায়তায় মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে একটি টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম রাখাইন রাজ্যের বর্তমান অনিশ্চিত ও পরিবর্তিত মাঠপর্যায়ের জটিল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ও সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের যৌথ আয়োজনে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফরেন সার্ভিস একাডেমি ও ইউএনএইচসিআরের সহযোগিতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কূটনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষক-গবেষক, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের এ সম্মেলন থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে একটি ‘পলিসি ব্রিফ’ তৈরি করা হবে, যা সরকারের নীতি-নির্ধারণে সহায়তা করবে বলে আয়োজকদের ভাষ্য।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম