এসএসসির খাতা কি দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের আবেদন করা যায়?
Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করেছে। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছেন। এছাড়া নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করেছে। এর আগে গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল।
এবার রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পরও কেউ সন্তুষ্ট না হলে, তিনি কি আবার একই খাতা মূল্যায়নের আবেদন করতে পারবেন?
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘একই উত্তরপত্র দ্বিতীয়বার পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নেই। তবে কোনো শিক্ষার্থী ফলাফলে সন্তুষ্ট না হলে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানূ বিবিসি বাংলাকে বলেন, একটি উত্তরপত্র কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে মূল্যায়ন ও যাচাই করার পর ফল প্রকাশ করা হয়। পুনঃনিরীক্ষণের পর বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী আবার একই খাতা দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, বোর্ডের নির্ধারিত নীতিমালার বাইরে গিয়ে পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়। এরপরও কোনো শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট না হলে তাকে আদালতে যেতে হবে।
একই কথা জানিয়েছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা। তিনি বলেন, আদালতে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থী রিট করলে এবং আদালত খাতা পুনরায় দেখার নির্দেশ দিলে বোর্ড সেই নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।
কেন দ্বিতীয়বার পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নেই?
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, একটি উত্তরপত্র প্রথম থেকেই কয়েকটি ধাপের মধ্য দিয়ে যায়।
প্রথমে পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন। এরপর প্রধান পরীক্ষক সেটি যাচাই করেন। পরে নিরীক্ষক নম্বরের হিসাব ঠিক আছে কি না, তা পরীক্ষা করেন।
এরপর কোনো শিক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করলে আরেকজন পরীক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়।
অর্থাৎ, পুনঃনিরীক্ষণের পর একটি উত্তরপত্র মোট চারটি ধাপ অতিক্রম করে। তাই এরপর আবার একই উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
এবার কত আবেদন পড়েছে?
চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।
মূল ফল প্রকাশের পর পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও ছিলেন।
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। তাই পরীক্ষার্থীর তুলনায় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।
সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
এত বিপুলসংখ্যক আবেদনের বিষয়টি নিয়ে এর আগে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও পুনঃনিরীক্ষণের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ভবিষ্যতে বদলাতে পারে নিয়ম
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের অভিজ্ঞতা থেকে ভবিষ্যতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য একটি নতুন নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কোন ধরনের উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষা করা হবে, কোন ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং পরীক্ষকদের যোগ্যতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয় নতুন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
শিক্ষকদের খাতা মূল্যায়নের মান, আন্ডার মার্কিং বা ওভার মার্কিং হচ্ছে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বর্তমান আইনে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্রে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এ ধরনের অনিয়ম নির্ধারণে তৃতীয় একজন পরীক্ষকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়।
শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ চালু করা সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হতে পারে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. আব্দুস সালাম মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তাত্ত্বিক পরীক্ষা-নির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সক্ষমতার যথাযথ মূল্যায়ন সবসময় সম্ভব হয় না।
সূত্র: বিবিসি বাংলা


