‘অ্যাটর্নি জেনারেল, হু ইজ হি হেয়ার?’
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। বলেছেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল! হু ইজ হি হেয়ার?
সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মলেনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ এবং এ নিয়ে ব্যারিস্টার কাজলের বক্তব্য নিযে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল! হু ইজ হি হেয়ার? আমি সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে... আপনারা জানেন, এই সুপ্রিম কোর্টে আমাকে আইনজীবীরা ১১ বার নির্বাচিত করেছে। বার কাউন্সিলে সারা বাংলাদেশের ল’ইয়াররা তিনবার… আমি আইনজীবীদের কথা বলবো, বিচারপতিদের কথা বলবো প্রধান বিচারপতির নিকট।’ অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনও কাজ আছে এর মধ্যে, পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মাহবুবউদ্দিন খোকন আরও বলেন, ‘হি ইজ ইররেলিভেন্ট! তার বক্তব্যই ইররেলিভেন্ট! হি ইজ নোবডি ইন আওয়ার ডিসকাশন, ইন আওয়ার ডিমান্ড, অন আওয়ার ডিমান্ড! তার বক্তব্যটা অনভিপ্রেত।’
ব্যারিস্টার খোকন আরও বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম! উনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন না? উনি কে? উনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আই অ্যাম সারপ্রাইজড, শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড!’
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার বর্ণনা দেন ব্যারিস্টার খোকন, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
পরে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার খোকন সাংবাদিকদের বলেন, অন্য একটি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, একজন জুনিয়র আইনজীবী, ৫ লাখ টাকা কস্ট দেওয়াটা অনেক বেশি হয়ে গেছে, এটা মাফ করে দেওয়া দরকার।
খোকন বলেন, আমি ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থেই’ বিষয়টি বলেছি। তিনি বলেন, মামলায় আইনজীবীর জয়-পরাজয় হতে পারে, কিন্তু জুনিয়র আইনজীবীর ওপর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা ‘অনেক বেশি’।
তিনি বলেন, ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আমি প্রধান বিচারপতিকে বললাম, যে আপনি মাননীয় প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আসলে মামলা-টামলা খুব একটা হচ্ছে না আপিল বিভাগে। আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।
খোকনের দাবি, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল আপিল বিভাগে বেঞ্চের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে মামলার শুনানি কমে যাওয়ার বিষয়টি বোঝানো।
তিনি বলেন, আগে আপিল বিভাগে ১১ জন বিচারপতি ছিলেন এবং তিনটি বেঞ্চে নিয়মিত মামলা শুনানি হতো। এখন একটি বেঞ্চে মামলা শুনানি হওয়ায় হাজার হাজার মামলা পড়ে আছে এবং চেম্বার আদালত থেকে কোনো মামলায় স্থগিতাদেশ হলে পরে সেটি শুনানির জন্য আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ওই মামলায় সর্বোচ্চ তিন মাসের সাজা হতে পারে। কিন্তু মামলাটি এক বছর ধরে আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে। চারবার চেম্বার জজের কাছে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেও মামলাটি শুনানি করাতে পারিনি।
ব্যারিস্টার খোকন বলেন, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার কোনো তর্ক হয়নি। আইনজীবীদের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের স্বার্থের কথা বলা তার দায়িত্ব। আমি তো চিন্তা করি নাই যে মাননীয় প্রধান বিচারপতি এত রিঅ্যাক্ট করবেন। উনারতো রাগ-অভিমানের ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আর লইয়ারদের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমার অবলিগেশন আছে উনার কাছে লইয়ারদের পক্ষে আবেদন করার।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, জরিমানা মওকুফের অনুরোধের পর প্রধান বিচারপতি জানান, আদালতের সঙ্গে ‘প্রতারণা এবং গুরুতর জালিয়াতির’ বিষয়টি বিবেচনা করেই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত সেই আদেশ পরিবর্তন করবে না।
