মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আনসার-ভিডিপির সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় সঞ্জীবন প্লাটুনের সদস্যদের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।
সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির স্বেচ্ছাসেবক সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকে উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ‘সঞ্জীবন প্লাটুন’ গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সদস্যদের দক্ষ, কর্মমুখী ও স্বাবলম্বী করে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
আনসার-ভিডিপির সদস্যদের স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তৃত উপস্থিতি এবং সংগঠিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কারিগরি নির্দেশনা অনুসরণ করে সঞ্জীবন প্লাটুনের উদ্যোক্তারা উন্নত জাতের গাভী, ছাগল, গাড়ল ও ভেড়া পালন এবং বিভিন্ন জাতের মুরগির খামার গড়ে তুলতে পারেন। দলগতভাবে এসব খামার পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপদ মাংস ও দুধ উৎপাদন, স্বাস্থ্যসম্মত খামার ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ বাজারজাতকরণে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া মাছ চাষ, সমন্বিত মৎস্য চাষ এবং মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে পুকুর, জলাশয় ও পতিত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার করে এসব উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণের সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষণ, ঋণ, উৎপাদন উপকরণ, কারিগরি পরামর্শ ও বাজারসংযোগ-এই বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করা গেলে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারবেন। এতে গ্রামীণ বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হতে পারে।
সঞ্জীবন প্রকল্পের আওতায় আনসার-ভিডিপির প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের পরিবারকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে মৎস্য, ডেইরি, পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়ানো গেলে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সহযোগিতার মাধ্যমে সঞ্জীবন প্রকল্পকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের আত্মনির্ভরশীল করার পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
