Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

তদন্ত করলে ছাত্র উপদেষ্টাদের নামে শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে: প্রতিমন্ত্রী নুর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

তদন্ত করলে ছাত্র উপদেষ্টাদের নামে শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে: প্রতিমন্ত্রী নুর

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টাদের নামে অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মিসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ উপকমিটি এই সভার আয়োজন করে।

নুর বলেন, এই যে ছয় মাস দায়িত্বে আছি- যে যত কথাই বলুক, স্পেসিফিকভাবে কেউ কোনো দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবে না। যেদিন প্রমাণ করবে, আমরা বলেছি— সেদিন আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দেব।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে— আমরা যেই পরিবর্তনের লড়াই বাংলাদেশে শুরু করেছি, তার শেষ আমরা দেখে যেতে চাই এবং এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা একটু লড়াই সংগ্রাম করতে চাই।

এনসিপির সমালোচনা করে নুর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই তথাকথিত দল এনসিপিকে দাঁড় করানোর জন্য আওয়ামী মাফিয়া লুটেরাদের যেমন পুনর্বাসন করেছিল, ঠিক তেমনিভাবে এদেরকে ক্ষমতায়ন করে— আপনারা এদেরকে শত শত কোটি টাকার মালিক বানিয়েছেন। শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা নয়— এই তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টা যারা ছিল, তাদের যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, প্রত্যেকের অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে; আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি।

কাজেই এই বিপ্লবের কথা বলে— জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নাই।

এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতা অতীতে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করে নুরুল হক নুর বলেন, জামায়াতের প্রভাব থেকে বেরিয়ে বিকল্প রাজনীতি না করলে তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি সংস্থাগুলোতে প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু আদর্শিক তরুণ প্রলোভনে পড়ে গণঅধিকার পরিষদে তাদের ধরে রাখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দল জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দ্বিচারিতা করছে— রাজপথে একরকম এবং সংসদে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের এই জুলাই পরবর্তী আমরা যে নতুন বাংলাদেশের কথা কল্পনা করি বা স্বপ্ন দেখি বা চিন্তা করি, যে যেখানে আমরা বারবার বলেছি যে রাষ্ট্র নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে, একটা জনকল্যাণকর রাষ্ট্র হবে, জনগণের ভ্যাট ট্যাক্সের পয়সায় যে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী সরকারি অফিসার থেকে শুরু করে আমরা নিচের লেভেলে যে কর্মকর্তা-কর্মচারী যাই বলি না কেন তাদের বেতন হয়, তারা জনগণের প্রতি দায় এবং দরদের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তাদের একটা সেবা দেবে, সার্ভিস দেবে। কিন্তু আমার মনে হয় যে অনেক দপ্তরে আসলে এখনও আমরা ওই পরিবর্তনটা ঘটাতে পারি নাই।

এখনো বিভিন্ন কাজে সুপারিশ করতে হয় বলেন উল্লেখ করেন নুর বলেন, নিজের অফিসে বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাছাড়া অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও যাচাই বাচাই করার জন্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এই সুযোগ-সুবিধা খুদ-কুড়া— এই চিন্তা-ভাবনা না করে রাজনীতিতে যেহেতু ফ্যাসিস্টদের সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে আমি মনে করি— আপনাদের যে একটা সংগ্রাম, আদর্শিক লড়াই— সেই লড়াইকেই আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে। সুবিধাবাদের চিন্তা-ভাবনা করলে আমরাও রাজনীতিতে টিকব না, আমাদের রাজনীতিও হারিয়ে যাবে।

দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী স্থানীয় নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদ নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, দলের নেতা

আরিফুর রহমান, মো. ইউনুস, আরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিল প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম