টকশোতে অংশ নেওয়া নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়
অতিরঞ্জিত নয়, বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কথা বলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের চলমান সংকট ও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো বিষয় অতিরঞ্জিত করা যাবে না। আবার সমাজে বিদ্যমান ধারণাকেও অস্বীকার করা যাবে না। যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের অবস্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তাগিদ দেন।
টকশোসহ গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয়ে কথা বলেন এমন ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। সংকট মোকাবিলায় সরকার ও দলের পাশাপাশি সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি যুগান্তরকে জানান, সরকারের বেশ কয়েকজন এমপি-মন্ত্রী, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার অন্তত ১০০ জন এতে অংশ নেন। বিএনপির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিদ্যমান সংকট, সরকারের কর্মকাণ্ড, জনমনে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ধারণা এবং এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান কীভাবে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া সরকার ও দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকার ও দলের অবস্থান দেশবাসীর সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে কোনো কিছু বাড়িয়ে বলা বা অতিরঞ্জিত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, অতিরঞ্জিত যেমন করা যাবে না, আবার সমাজের বিদ্যমান ধারণাকেও অস্বীকার করা যাবে না। সমাজের ধারণাকে বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবতার নিরিখে বলতে হবে। টকশো বলেন আর টকশোর বাইরে বলেন, যা বলার যৌক্তিকভাবেই বলতে হবে। তথ্যভিত্তিক বলতে হবে।
বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বলেন- প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাকে সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় এগিয়ে নিতে হবে। ওই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমি একা পারব না, আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন। আপনারাই বলছেন, আমার বিষয়ে মানুষের ধারণা ইতিবাচক। আমি একা ইতিবাচক হলে তো হবে না। আমি একা তো পারব না, সমন্বিত প্রচেষ্টা লাগবে। সরকারের চেষ্টাকে তুলে ধরতে হবে যৌক্তিকভাবে।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের কাজ ও অবস্থান ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্ব দেন। অংশগ্রহণকারীরা জানান, তার বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, সরকারের উদ্যোগকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে তা হতে হবে বাস্তবসম্মত, যুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক। একই সঙ্গে জনমনে থাকা প্রশ্ন, উদ্বেগ বা ধারণাগুলোকে পাশ কাটিয়ে নয়; বরং সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই বক্তব্য দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া আরেক নেতা বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি টকশোতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এই মিথ্যার পাল্টা জবাব দিতে তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মতবিনিময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছাড়াও কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
