ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯ গেট খোলা
বাড়ছে পদ্মার পানি, বন্যার আভাস
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পিএম
বন্যা। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খুলে দেওয়া হয়েছে। উজানে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত পানি দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই গেটগুলো খোলা হয়েছে।
গত তিন দিনে রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রায় দুই মিটার বেড়েছে বলে স্থানীয় পর্যবেক্ষণে জানা গেছে।
এতে নদীর চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজশাহীতে পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২৬ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৮ দশমিক ৫ মিটার পৌঁছালেই বিপৎসীমা অতিক্রম করবে।
রাজশাহীতে পদ্মার পানি বাড়ার ফলে এরই মধ্যে মাঝচর, আষাড়িয়াদহ, খিদিপুরসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন নিচু জায়গা পানিতে তলিয়ে গেছে।
নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পানি আরও বাড়লে চরাঞ্চলের বসতি, কৃষিজমি ও নদীনির্ভর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়তে পারে।
পদ্মার পানি এভাবে বাড়তে থাকলে রাজশাহী শহর ও জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, নদী পর্যবেক্ষণ ও পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন, পদ্মা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এ অবস্থায় নদীর চর ও নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পদ্মা নদীর পানি বন্যা বিপৎসীমার কাছাকাছি উচ্চতায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এতে চরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, ১০ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কায় গঙ্গার পানির উচ্চতা ২৩ দশমিক ৭৫ মিটারে পৌঁছেছে। সেখানে স্থানীয় বিপৎসীমা ২২ দশমিক ২৫ মিটার। অর্থাৎ পানির উচ্চতা বিপৎসীমার প্রায় দেড় মিটার ওপরে রয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খোলা রয়েছে। ব্যারাজ দিয়ে মোট পানিপ্রবাহ প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি ফিডার খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, ফারাক্কা দিয়ে বাড়তি পানির প্রবাহ একই মাত্রায় বাংলাদেশে প্রবেশ করায় পদ্মা নদীতেও দ্রুত পানি বাড়তে শুরু করেছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আরও চরাঞ্চল ও বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর চর এবং নিচু নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
