Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

ক্র্যাবে সংবাদ সম্মেলন

পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতাকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

পূজা উদযাপন ফ্রন্টের নেতাকে লাঞ্ছনার অভিযোগ

Advertisement

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসুকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, সংগঠনের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বাবু বিজন কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে।

শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এ সময় সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়। 

এদিকে যুগান্তরকে দেওয়া বক্তব্যে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন বিজন কান্তি সরকার। 

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি গৌতম মিত্র লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের ব্যক্তিগত আক্রোশ ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী সনাতন সম্প্রদায়ের সংগঠনকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। 

ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু অভিযোগ করে বলেন, ২ আগস্ট বিকালে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার সংগঠনের সভাপতি অপর্ণা রায় দাসের মোবাইল থেকে আমাকে ফোন করে অফিসার্স ক্লাবে ডেকে নেন। সেখানে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, আলোচনার একপর্যায়ে তরুণদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন আমার ওপর চড়াও হন এবং আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে কয়েকজন আমাকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে যান। এর আগে আমাকে সংগঠনের সদস্য হিসাবে থাকতে দেওয়া হবে না এবং এমপি-মন্ত্রীর কাছে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মিল্টন বৈদ্যকে সাধারণ সম্পাদক করে চার সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনের নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী সনাতন নেতাদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট গঠিত হয়। পরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে প্রধান উপদেষ্টা করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর সাত মাসের মধ্যে সংগঠনটি ৫০টি জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করে। বর্তমানে এ সংখ্যা ৬২ এবং দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক রয়েছে। 

তারা বলেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কোনো সংগঠনের অঙ্গসংগঠন নয়; এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সংগঠন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে ২ আগস্টের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হামলাকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা, হুমকি ও শারীরিক হামলা বন্ধ, অনুমোদিত গঠনতন্ত্রের প্রতি সম্মান এবং সনাতন স¤প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়।

সমীরকে কেউ হেনস্তা করেনি, বাদ পড়ার ক্ষোভ: অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার যুগান্তরকে বলেন, দুই পক্ষের বিভক্তি দূর করে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের একটি পূজা উদযাপন ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি দাবি করেন, সমীর কুমার বসুকে কেউ হেনস্তা বা মারধর করেনি। সভায় কমিটি পুনর্গঠনে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সমীরের অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে বিজন কান্তি বলেন, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ‘বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের’ অঙ্গসংগঠন হিসেবে অনুমোদিত এবং এ সংগঠনে একাধিক কমিটি থাকতে পারে না। 

তিনি বলেন, সমীর বাদ পড়ার ক্ষোভ থেকেই এসব অভিযোগ করছেন। যা রীতিমতো অপরাধ। 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম