Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

গঙ্গা চুক্তিতে মারাত্মক ত্রুটি ছিল: সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান

Advertisement

Icon

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ এএম

গঙ্গা চুক্তিতে মারাত্মক ত্রুটি ছিল: সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান

Advertisement

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ফারুক সোবহান বলেছেন, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত গঙ্গা চুক্তিতে মারাত্মক ত্রুটি ছিল। এই চুক্তিতে কোনো গ্যারান্টি ক্লজ এবং আরবিট্রেশন ক্লজ ছিল না। এ বিষয়ে শেখ হাসিনাকে একাধিকবার বললেও তিনি চুপ করে ছিলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলেননি।

তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে এ চুক্তির আলোচনার সময় ভারতের পক্ষ থেকে গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা রাখা হয়নি।

শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাষ্ট্রদূত মাহমুদ হাসানের 'সেরেনডিপটি ইন ডিপ্লোম্যাসি, বিটুইন প্রোটোকল অ্যান্ড পলিটিক্স' এবং রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিমের লেখা 'ইন সার্চ অব অ্যা রোল মডেল' বই দুটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে এসব কথা বলেন ফারুক সোবহান। তিনি ১৯৯৫-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফারুক সোবহান বলেন, আমি তখন পররাষ্ট্র সচিব ছিলাম। সেসময় গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি সইয়ের পক্ষে প্রথাগত একটা যুক্তি ছিল ভারতের সাথে গঙ্গা চুক্তি সই হলে দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়ণ হবে। গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তির বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়। গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আমাদের দুটি বৈঠক হয়েছিল। ভারতীয়রা প্রাইভেটলি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এতে তারা সহায়তা করবে। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের মতো পরবর্তীতে এটার মৃত্যু হয়। আমরা এখনও আশা করি গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প পুণরুজ্জীবিত হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ওপর নির্দেশনা ছিল এবারের চুক্তি যেন ১৯৭৭ সালে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী চুক্তির চেয়ে ভালো হয়। সুতরাং চুক্তিতে কমপক্ষে ৩৪,৫০০ কিউসেক পানির পাওয়ার গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা থাকতে হবে এবং আর্বিট্রেশন ক্লজ থাকতে হবে।

ফারুক সোবহান জানান, পরবর্তীতে চুক্তির মূল সমঝোতার প্রক্রিয়া থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সচিব ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীরকে চুক্তি সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ফারুক সোবহান বলেন, যখন চুক্তির চুড়ান্ত খসড়া আমাদের কাছে আসে আমি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী খসড়া রিভিউ করি। আমরা দেখতে পাই চুক্তিতে কোনো গ্যারান্টি ক্লজ এবং আর্বিট্রেশন ক্লজ নাই। পরের দিন অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার আগের দিন আমরা তার কাছে যাই এবং তাকে বলি আপনি দিল্লি যাবেন না, কারণ এই চুক্তি সর্বোতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে গ্যারান্টি ও আর্বিট্রেশন ক্লজ নাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন উত্তর দেন, আমি দিল্লি গিয়ে এটার সমাধান করব। আমরা দিল্লি গেলে বিমানবন্দরে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইকে গুজরাল আমাদের অভ্যর্থনা জানান। গুজরাল প্রধানমন্ত্রীকে বললেন, আমরা চুক্তির সবকিছু চুড়ান্ত করেছি, এখন এটা প্রিন্ট করার জন্য আপনার সম্মতি চাই। আমি অপেক্ষা করছিলাম প্রধানমন্ত্রী বলবেন যে, চুক্তিতে গ্যারান্টি ও আর্বিট্রেশন ক্লজ নাই, কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না।

ফারুক সোবহান বলেন, তখন আমি তাকে (শেখ হাসিনা) বললাম, আপনি কিছু বলেন। উত্তরে তিনি বললেন, না, আপনি বলেন। তখন আমি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইকে গুজরালকে চুক্তির খসড়ায় গ্যারান্টি ও আর্বিট্রেশন ক্লজ না থাকার বিষয়টি জানাই।

উত্তরে আইকে গুজরাল বললেন, চুক্তির সবকিছু তো সমঝোতার মাধ্যমে হয়েছে। আপনারা আমলারা সবসময় শেষ মুহুর্তে ঝামেলা তৈরি করেন। এ পর্যায়ে আমি ভিক্টিম বা ভিলেন হয়ে গেলাম।

মি. গুজরাল তখন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করলেন, চুক্তি সইয়ের জন্য প্রিন্ট করতে আমি কি আপনার সম্মতি পেতে পারি? শেখ হাসিনা চুপ করে রইলেন। তখন তার চুপ থাকাকে সম্মতি হিসেবে ধরে নিলাম। এরপর গ্যারান্টি ও আর্বিট্রেশন ক্লজ ছাড়াই গঙ্গার পানিবন্টন চুক্তি সই হয়।

প্রসঙ্গত, আর্বিট্রেশন ক্লজ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট আইনি শর্ত যার মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলো সম্মত হয় যে, ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা দ্বিমত হলে সাধারণ আদালতে না গিয়ে তারা একটি নিরপেক্ষ সালিশি ট্রাইবুনাল বা আর্বিট্রেশনের মাধ্যমে সমাধান করবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম