এমপিও শিক্ষকরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন কিনা, সিদ্ধান্ত ইসির
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে। তাই আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এর আগে সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে, তিনি (প্রার্থী) প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো কর্মে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে যদি অধিষ্ঠিত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এটা হচ্ছে নির্বাচনি আইন।’
তিনি বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ব্যাপারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কুল ও কলেজ জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০২৫-এর বিধি ১১.১৭-এর ‘ক’ ও বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে বলা হয়েছে যে এই পদটি লাভজনক। মানে শিক্ষকদের পদটি লাভজনক। তাহলে আইনের সঙ্গে এখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাটা কাছাকাছি মিলে যাচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক একই সঙ্গে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। এমপিও নীতিমালার বিধি ১১.১৭-এর ‘খ’-তে আর্থিক লাভজনক পদের সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই সংজ্ঞা অনুযায়ী আর্থিক লাভজনক পদ বলতে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো ধরনের বেতন-ভাতা, সম্মানী এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ কর্মের বিনিময়ে দেওয়া বেতন-ভাতা ও সম্মানীকে বোঝায়।
মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনি বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালা বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনই সিদ্ধান্ত নেবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না।
তবে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত মতামত, বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সে ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে আইন করছে বলে জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই বিধান রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমপিও নীতিমালাতেও শিক্ষকদের আর্থিক লাভজনক পদের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আইন তো করাই আছে যে লাভজনক পদে থাকলে উনি নির্বাচন করতে পারবেন না। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় কি আছে আমি ওটাও আপনাদের কাছে পরিষ্কার করেছি আজ। বাকিটা তখন নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে বিধিমালা এবং যোগ্যতা-অযোগ্যতা। এখন জামায়াত যদি সরকারের ওপর কোনো দায় চাপায়, এটা চাপালে তো হবে না। কারণ এই বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করার সময় তারা তো সংসদে উপস্থিত ছিল। আমরা সবাই মিলেই তো বিলগুলো পাস করেছি।’

