Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

নতুন পে স্কেলে গ্রেডভেদে কমছে বাড়িভাড়া ভাতা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

নতুন পে স্কেলে গ্রেডভেদে কমছে বাড়িভাড়া ভাতা

Advertisement

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা ও বেতন-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও গ্রেডভেদে বাড়িভাড়া ভাতার হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো, সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা চালু এবং যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমছে বাংলা নববর্ষের ভাতাও।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নতুন কাঠামোয় সামরিক-বেসামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার অভিন্ন থাকছে না। উচ্চ গ্রেডে ইনক্রিমেন্টের হার কমানো হচ্ছে। অর্থাৎ গ্রেড যত ওপরে উঠবে, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার তত কম হবে।

জাতীয় বেতন কমিশন প্রথম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছিল। তবে সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অষ্টম ও নবম গ্রেডে কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় বেতন বৃদ্ধির হার কমানো হয়েছে। এ দুই গ্রেডে কমিশন প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করলেও সচিব কমিটি তা কমিয়ে ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে। অন্য গ্রেডগুলোতে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার বহাল রাখা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। প্রথম ধাপে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী দুই ধাপে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কেন বাড়িভাড়ার হার কমছে

জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েছে সচিব কমিটি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের ব্যবধানও পর্যালোচনা করা হয়।

এর ভিত্তিতে কমিশনের প্রস্তাবে কিছুটা কাটছাঁট করে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। তবে ২০টি গ্রেড রাখা এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব বহাল রয়েছে।

ঢাকায় বাড়িভাড়া ৪০-৬০ শতাংশ

২০১৫ সালের বিদ্যমান পে স্কেল অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা পান। নতুন পে স্কেলে এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে মূল বেতনের হার কমলেও গ্রেডভেদে মূল বেতন দ্বিগুণ বা তারও বেশি বাড়ায় প্রকৃত অর্থে বাড়িভাড়া ভাতার পরিমাণ বাড়তে পারে।

বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকা ও সাভার উপজেলায় গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এসব এলাকায় এ হার হবে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে ঢাকা ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলার বাইরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বর্তমানে মূল বেতনের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় এ হার কমে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম