যে কারণে বেক্সিমকোর অঢেল সম্পদ কিনছে না কেউ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রুপ বেক্সিমকো লিমিটেডের বন্ধক রাখা সম্পত্তি নিলামে তোলা হলেও তাতে কোনো ক্রেতা পাওয়া যায়নি। ৯৯৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি রূপালী ব্যাংক গত ১৪ আগস্ট এসব সম্পত্তি নিলামে তোলার ঘোষণা দেয়। নিলামে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা ২৬ একর জমি ও বিভিন্ন সম্পত্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সোমবার ছিল দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সম্পত্তি কেনার জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি। এর আগে জনতা ও সোনালী ব্যাংকও বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে তুলেছিল। সেসব নিলামেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নিলাম বিজ্ঞপ্তি: চলতি বছরের ১৪ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেয় রূপালী ব্যাংক। এতে কোম্পানির ঠিকানা হিসেবে সালমান এফ রহমানের ১৭নং ধানমন্ডির বাড়ির ঠিকানা উল্লেখ করা হয়।
যুগান্তরের অনুসন্ধানের দেখা গেছে-বেক্সিমকো শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট ঋণের স্থিতি ৬ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ৩ হাজার ১০৯ কোটি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৩ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। আর রূপালী ব্যাংকে ঋণ ৯৯৩ কোটি টাকা। এই টাকার বিপরীতেই নিলাম ডাকা হয়েছে। বেক্সিমকোর দুটি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা এবং বেক্সিমকো নিটিংয়ের নামে এই ঋণ নেওয়া হয়। পরে এই দুই কোম্পানি একীভূত হয়ে বেক্সিমকো টেক্সটাইলে (বেক্সটেক্স) রূপ নেয়। এরপর বেক্সটেক্সকে আবার বেক্সিমকো লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত করা হয়।
রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বেক্সিমকো টেক্সটাইলের কাছে রূপালী ব্যাংকের সর্বশেষ পাওনা ৯৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে অনাদায়ি সুদ অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাংকের পাওনা, অন্যান্য খরচ এবং আদালতের সুদসহ আদায়ের জন্য তফসিলে বর্ণিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সেই অবস্থায় নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নারায়ণগঞ্জের তারাব ও যাত্রামুরা মৌজাতেও বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামের তালিকায় রয়েছে। তারাব মৌজার দুটি অংশে মোট ৮ দশমিক ৩৯ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশে ৪ দশমিক ৫২ একর এবং অন্য অংশে ৩ দশমিক ৮৭ একর জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রামুরা মৌজার আরেক তফশিলে ৯ দশমিক ২ একর জমি রয়েছে। অর্থাৎ শুধু এই তিনটি তফসিলেই নারায়ণগঞ্জে ১৭ দশমিক ৪১ একর জমি রয়েছে। গাজীপুরের ৮ দশমিক ৫৫ একরসহ তফসিলে মোট ২৫ দশমিক ৯৬ একর জমির বিবরণ রয়েছে। এছাড়াও নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তফশিলের জমির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এসব জমির মধ্যে কোথাও একরের হিসাবে, আবার কোথাও শতাংশের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাজীপুরের একটি তফশিলে ২ দশমিক ১৯ একর, আরেকটিতে ৪৮ শতাংশ এবং অন্য একটি তফশিলে ৩ দশমিক ৬৬ একর জমির কথা উল্লেখ রয়েছে। আরও কয়েকটি তফশিলে দশমিক একর ও শতাংশ হিসাবে জমি রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে গাজীপুর মৌজা সরাবো এলাকায় ৮ দশমিক ৫৫ একর জমির পৃথক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। সেখানে সিএস খতিয়ানের বিভিন্ন দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮ দশমিক ৫৫ একর। নিলামে অংশ নেওয়ার সময় সীমা ছিল ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত। ওইদিন দুপুর ২টা ৫ মিনিটে দরপত্র জমা বক্স খোলার পর দেখা যায় কোনো আবেদন জমা পড়েনি।
বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি সেক্রেটারি আসাদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও মন্তব্য মেলেনি।
অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের নিলাম একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। কারণ সাধারণত এমন নিলামে কেউ আসেন না। কিন্তু এর বাইরে ব্যাংকের খুব বেশি কিছু করার নেই।
তিনি বলেন, বেক্সিমকো গ্রুপ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এখন পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে ব্যাংক গ্রাহকের সম্পত্তি নিলাম ডেকেছে। এটাই চলমান প্রক্রিয়া। টাকা আদায়ে বেক্সিমকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। তবে এই মুহূর্তে বেক্সিমকোর টাকা পরিশোধের সক্ষমতা নেই।
