Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

সাবেক সিটিটিসি প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পিএম

সাবেক সিটিটিসি প্রধানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

Advertisement

গাজীপুরের মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন আল-আমিনকে অপহরণ, নির্যাতন, হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাবেক প্রধান আসাদুজ্জামানসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দাখিল করা এ মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৩০ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই এর চার্জ গঠনের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন সূত্র।

অভিযুক্তদের তালিকা: তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মো. আসাদুজ্জামান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ, পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশ পরিদর্শক মো. মেজবাহ উদ্দিন আহাম্মেদ, এসআই তৌহিদুল ইসলাম সুমন।

অপহরণ ও গুম: সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সমালোচক হওয়ায় গত ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে গাজীপুরের চত্বর এলাকার মাদ্রাসা ইবনে মাসউদের অধ্যক্ষ আবুল হোসেনকে তুলে নিয়ে যায় সিটিটিসি। এরপর তাকে মিন্টো রোডস্থ কার্যালয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়।

পৈশাচিক নির্যাতন ও মৃত্যু: টানা ১৮ দিন আটকে রেখে এডিসি ইশতিয়াকের নেতৃত্বে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর ভিকটিমের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া: হত্যার দায় এড়াতে অভিযুক্তরা ভিকটিমের মৃতদেহ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের লাকিরচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর তুলসীখালী ব্রিজ থেকে পানিতে ফেলে গুম করে।

ভুয়া মামলা ও অন্যান্য ভিকটিম: এই ঘটনায় মোট ৫ জনকে ধরে এনে নির্যাতন করা হয়। এর মধ্যে একজনকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয় এবং বাকি ৪ জনকে পিটিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি ধারা: প্রসিকিউশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে এবং ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে সিটিটিসি ‘জঙ্গি নাটকের’ আড়ালে বিরোধী মতাদর্শীদের ওপর পদ্ধতিগত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতন চালাতো। তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামানের প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ)(জি)(এইচ) এবং ৪(১), ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ (হত্যা, নির্যাতন ও গুম) সংঘটনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম