হ্যাঁচকা টানে শিক্ষিকার মৃত্যু: দুজন প্রকৃত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতাররা হলেন- খোকন ও রাজীব মাতব্বর। তারা দুজনেই প্রকৃত ছিনতাইকারী। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
এর আগে ২৯ আগস্ট শেরেবাংলা নগর থানার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে রনজিলা ছিনতাইয়ের শিকার হন। ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রনজিলার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরে বাংলা নগর থানায় অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ সময় ‘ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত’ মোটরসাইকেল উদ্ধার করে সংস্থাটি। তবে সিসিটিভি বিশ্লেষণে দেখা যায়- ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মিল নেই। বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় আলোচনা-সমালোচনা। তবে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া তিনজনের এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছে ডিবি।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণে প্রকৃত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার মিরপুরের মনিপুর পশ্চিমপাড়া থেকে খোকনকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনার সময় খোকন মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিলেন এবং রনজিলার ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী- মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে রনজিলার ছিনতাই হওয়া ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যাগে তার ব্যবহৃত পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। এ সময় রনজিলার মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পরে রাজীব মাতব্বরকে বিরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করে ডিবি। ঘটনার সময় তিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় র্যাব তিনজনকে গ্রেফতার করে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এ ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে র্যাব ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত যে মোটরসাইকেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল- তা সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে পার্থক্য পাওয়া যায়।
র্যাবের হাতে আগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে খোকন ও রাজীবের কোনো যোগাযোগ আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে তাদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য, নতুন করে গ্রেফতার হওয়া দুজন পশ্চিম মনিপুর এলাকায় থাকেন। আর র্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা তেজতুরীপাড়া এলাকার। এরা দুটি ভিন্ন গ্রুপ। সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় আইনি প্রক্রিয়া চলবে।
