সরকারি চাকরিজীবীদের নবম পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ বিকালে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জারি হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকাল ৩টায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে মূল বেতন একসঙ্গে নয়, তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ও ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
নতুন পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ পেনশনভোগীও নতুন কাঠামোর সুবিধা পাবেন।
মূল গেজেটের পাশাপাশি বেসামরিক কর্মকর্তা কর্মচারী, পুলিশ, বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক এসআরও জারি করা হবে।
প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর আইবাস++ এ বেতন পুনর্নির্ধারণ এবং নতুন হিসাব কাঠামো যুক্ত করার কাজ শুরু হবে। এরপর বেতন ফিক্সেশন ও বকেয়া পাওনা সমন্বয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায় সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছিল।
পরে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়।
এর পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল ৩টার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা রয়েছে।



