অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা
পিকে হালদারের ভাই প্রিতিশ হালদারের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
দুদক। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং অবৈধ আয় বৈধ করার চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পি কে হালদারের ভাই আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক জানায়, তদন্তে প্রিতিশ কুমার হালদারের নামে ক্রয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার আগের ব্যবসার পুঁজি এবং ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিবিধ ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ খাতে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখানো হয়।
তদন্তে দেখা যায়, এর মধ্যে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ বাবদ দেখানো ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার পক্ষে কোনো রেকর্ডপত্র বা তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দুদকের তদন্তে ওই অর্থকে গ্রহণযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার মতে, অবৈধ আয়কে বৈধ করার উদ্দেশ্যে এসব অর্থ ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ থেকে পাওয়া আয় হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিস্তারিত বিবরণী দাখিলের জন্য ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল আদেশ জারি করে দুদক। তাকে নির্ধারিত ঠিকানায় পাওয়া না যাওয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর একই বছর সম্পদ বিবরণীর আদেশের মূল ফরমসহ তার ঠিকানায় নোটিশ লটকিয়ে জারি করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। এতে দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়।
দুদক আরও জানায়, তদন্তে প্রিতিশ কুমার হালদারের নামে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের করপোরেট শাখার একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্যও পাওয়া যায়। ওই হিসাবে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত মুনাফাসহ মোট ৪ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা ৮৫ পয়সা জমা হয়। একই সময়ে বিভিন্ন কর্তনসহ উত্তোলন করা হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৫ টাকা ৪৩ পয়সা। অর্থাৎ ওই হিসাবে মোট ৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৬ টাকা ২৮ পয়সার লেনদেন হয়েছে।
দুদকের তদন্তে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ওই ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অবৈধ আয় বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এর মামলা নম্বর-২ দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক মো. শহীদুল আলম সরকার।
তদন্ত শেষে প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

-6aafa261850f3.jpg)