৮ মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার: আসক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ বছর এমন অনেক শিশুরই সন্ধান মিলেছে মৃত্যুর পর—কেউ মাটিচাপা অবস্থায়, কেউ নদী বা ডোবা থেকে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধার নয়, চলতি বছরে ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছে শিশুরা। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো কোনো ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে পরিচিত ব্যক্তি বা স্বজনের দিকে।
আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যায় ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যায় চার, গুলিতে তিন, গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে এক শিশু।
এছাড়া আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনার তথ্যও রয়েছে আসকের হিসাবে।
আট মাসে ২ হাজার ৩৬২ হত্যা মামলা
শুধু শিশুহত্যা নয়, দেশে সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে দেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে গড়ে ২৯৫টি হত্যা মামলা হয়েছে।
এখনো নিখোঁজ ২ হাজারের বেশি শিশু
আসক জানায়, শিশুহত্যার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হলেও ৮৭ শতাংশের বেশি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৭৯। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজ শিশুর প্রায় ১৩ শতাংশ।
সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ
বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে গত ২২ মে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান।
ঘর, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেয় ইউনিসেফ। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার কথা বলা হয়। স্কুল, মাদরাসা ও কর্মক্ষেত্রেও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।
