সীমান্ত সড়কের সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পানিসম্পদ মন্ত্রী
Advertisement
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজার উখিয়া টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে তিন দফা ব্যয় ও প্রকল্প সংশোধন করা হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সমীক্ষা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেন, বিগত দুইটি সরকারে আমলেও কয়েক দফা অর্থ বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে না পারা মানে প্রকল্পের কাজে জনস্বার্থ প্রাধান্য ছিল না। নিজেদের মতো প্রকল্প তৈরি করে কিছু দলের নেতাদের সুবিধা দিয়েছিল। তাই আমরা সরেজমিন দেখতে এসেছি। কী করে এ প্রকল্প শেষ করা যায়। সীমান্তপারের মানুষগুলোর জন্য টেকনাফে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে তাদের জীবন জীবিকার মান উন্নয়ন করে মৎস্য আহরণ ও চাষাবাদ দীর্ঘ স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা যায়- সেই বিষয়ে দ্রুত কাজ বাস্তবায়ন করতে চাই।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় বঙ্গোপসাগরের পানিতে পশ্চিমের বেড়িবাঁধ এলাকার ভাঙন পরিদর্শন শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুরে টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।
সভায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের বিষয়ে এ্যানি বলেন, একটা প্রজেক্ট তিনবার রিভাইজ হওয়ার পরও জনগণের সুবিধা থেকে আমরা বঞ্চিত। তাহলে রিভাইজ কেন হলো? তিনবার হওয়ার যৌক্তিকতা কী ছিল, আপনারা বুঝে নেন। এটা কি জনস্বার্থে হলো?এটা এখন আমাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার এটাকে শেষও করতে হবে। বসে থাকলে তো চলবে না। তাই সরজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছি কিভাবে প্রকল্প শেষ করে জনগণের সেবার জন্য বেড়িবাঁধ ও সীমান্ত সড়ক উন্মুক্ত করা যায়।
পানিসম্পদ মন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বার্থের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি নিষ্কাশন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সীমান্ত সড়কের কাজ শেষ করা হবে। সড়কটি চালু হলে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।
এর আগে নাফ নদীর তীরবর্তী পোল্ডার ৬৭/এ, ৬৭/বি ও ৬৮-এর পুনর্বাসন প্রকল্প পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে এ্যানি বলেন, টেকনাফের মানুষ এখনো এ প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পায়নি। প্রকল্পের স্ট্রাকচার ও সমীক্ষা সঠিক না হওয়ায় দীর্ঘ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আযাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিন, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম অনীক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৭ সালে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে ৪১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকারি হিসাবে প্রকল্পটির অগ্রগতি ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, পানি নিষ্কাশন, খাল পুনঃখনন, সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ রয়েছে।
