Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

ফুডপান্ডার শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

ফুডপান্ডার শীর্ষ ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

Advertisement

ফুডপান্ডার শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কয়েক কোটি টাকার পণ্য নিয়ে বিপুল অর্থ পরিশোধ না করা, পণ্য নষ্টের অজুহাতে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি এবং চুক্তির বাইরে বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন- ফুডপান্ডা বাংলাদেশের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আম্বারিন রেজা, কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজধানীর ব্যবসায়ী ও ফার্স্ট টেলি সেলস কোম্পানির স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে পৃথক চারটি মামলা করেন। মামলাগুলো আমলে নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ গুলশান থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলা নম্বর ৩৫১৭/২৫, ৩৫১৮/২৫, ৩৫১৯/২৫ ও ৩৫২০/২৫।

এজাহারে বলা হয়, বাদী আইপিএলই ইলেকট্রনিক্সের মাধ্যমে হাউজহোল্ড ও কিচেন অ্যাকসেসরিজ, মোবাইল অ্যাকসেসরিজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ফুডপান্ডার সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টে সরবরাহ করতেন। ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রয়াদেশের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার পণ্য সরবরাহ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব পণ্যের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি প্রায় ১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে পাওনা অর্থ আটকে রেখে বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেছেন বাদী।

আরও গুরুতর অভিযোগ, সরবরাহ করা পণ্য নষ্ট হয়েছে দেখিয়ে ভুয়া ফেরত চালান তৈরি করা হয়েছে। এভাবে পাওনা অর্থ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত ভেঙে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপন বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

একদিকে কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ, অন্যদিকে বিপুল অর্থ বকেয়া- এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও হিসাব ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পণ্য ফেরতের দাবি কতটা সত্য, ফেরত চালানগুলো কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করার পেছনে প্রকৃত কারণ কী-তদন্তে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে।

একই অভিযোগে ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক চারটি মামলা হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় এখন মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

আইপিএলই বিষয়ে ডেলিভারি হিরো (ডিএইচ) স্টোরস জানিয়েছে, দায়িত্বশীল করপোরেট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেলিভারি হিরো স্টোরস বাংলাদেশের আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল, এবং আইন পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোকাবিলা করব। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে জানাতে চাই, ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পরে এমন কোন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের কর্মীরা কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জারি করা যেকোনো গ্রেফকারি পরোয়ানা এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ। ইতোমধ্যে আমরা বাংলাদেশের মাননীয় হাইকোর্ট থেকে আমাদের কর্মীদের জামিন নিয়েছি। 

আমরা আরও উল্লেখ করতে চাই যে, চারটি ফৌজদারি মামলা করেছেন মো. শিহাব মাহমুদ বশির। ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডেলিভারি হিরো স্টোরস (বাংলাদেশ) থেকে পাওনা অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বশিরের দেওয়া চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বাণিজ্যিক বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মামলা দায়ের করা হয়। এর থেকে প্রতীয়মান হয়- বশির নিজের দায় এড়াতে এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের হয়রানি করতে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে প্রতিশোধমূলক কৌশল হিসেবে এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। 

চারটি মামলারই তদন্ত করেছে একই থানার পুলিশ। তদন্ত পরবর্তী দুটি প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের সূত্র মেলেনি। একই সঙ্গে প্রতিবেদনের তথ্যে প্রতীয়মান হয়েছে, অভিযোগকারী পক্ষের কাছ থেকে ডিএইচ স্টোরসের অর্থ পাওনা রয়েছে। 

এতে প্রতীয়মান হয়, অসৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে অভিযোগকারী একটি সাধারণ বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিরোধকে ফৌজদারি মামলা হিসেবে আদালতে নিয়ে গিয়েছেন। এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে, এবং তা পর্যায়ক্রমে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে তাদের আস্থাকে ভঙ্গুর করে তোলার অবকাশ তৈরি করবে। এর ফলে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

এ বিরোধ যে মূলত বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট এবং এ বিষয়ে আমাদের কর্মীদের যে ফৌজদারি কোনো দায় নেই, তা প্রতিষ্ঠায় আমরা ধারাবাহিকভাবে আদালতসহ সংশ্লিষ্ট সবার পক্ষের সঙ্গে কাজ করে যাব।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম