বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয় তারেক রহমান ও এরদোগানের
Advertisement
নেসারুল হক খোকন, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের বৈঠক। ছবি: পিএমও
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শীর্ষ নেতৃদ্বয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশন্স প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মধ্যে এ বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক বৈঠক সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
এদিকে সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত বিশ্বনেতাদের নৈশভোজ। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের স্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহকারী প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
তিনি জানান, বৈঠকে আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এরদোগান। তিনি জানান, তুরস্ক রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে। আশ্রয়, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি), রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পর্যায়ে দাতব্য ও মানবিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোর সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
হাইতি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক: জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-এমের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী এদিন জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালেহ এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বনেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও কাজে লাগাচ্ছে বাংলাদেশ।
বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি বলেন, ‘মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
