সরকারি চাকরিতে মামলা চললে পদোন্নতি নয়, দণ্ড শেষেও দুই বছর অপেক্ষা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিভাগীয় মামলা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা কিংবা ফৌজদারি মামলায় জড়িত নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে কঠোর বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত নতুন জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালায়। মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবেন না।
সরকার নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রণয়ন করছে। এরই মধ্যে একটি খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
খসড়া বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগনামা দাখিল হলে, অথবা দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হলে কিংবা ফৌজদারি মামলা দায়েরের সরকারি অনুমোদন দেওয়া হলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারী গ্রেফতার হলে মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদোন্নতি পাবেন না।
দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও পদোন্নতির ওপর বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে লঘুদণ্ড দেওয়া হলে এক বছর এবং গুরুদণ্ড দেওয়া হলে দুই বছর পর্যন্ত পদোন্নতি দেওয়া হবে না। দণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পরবর্তী দুই বছর পদোন্নতি থেকে বিরত রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে বিভাগীয় মামলা, দুদকের মামলা বা ফৌজদারি অভিযোগ থেকে কোনো কর্মচারী অব্যাহতি পেলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাকে পদোন্নতি দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে তিনি ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাও পাবেন।
অবসরোত্তর ছুটি ভোগরত কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতি পাবেন না বলেও খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে কমিটি বা কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে উচ্চতর স্কেলে পদোন্নতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভাগীয় পদোন্নতিতে নির্ধারিত কোটার মধ্যে পদোন্নতি সীমিত রাখতে হবে। কোটার বাইরে অতিরিক্ত পদোন্নতি দেওয়া হলে সেই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা পদোন্নতির তারিখ থেকে গণনা করা যাবে না।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিধি) মো. মোস্তফা জামান জানান, নতুন বিধিমালার খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে। বিধিমালায় কিছু নতুন বিধি সংযোজনের বিষয় থাকলেও কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, নতুন বিধিমালা যথাযথভাবে প্রণয়ন করা না হলে জটিলতা তৈরি হয়ে মামলা-মোকদ্দমায় জড়াতে পারে সরকার।

