Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

বেটোপিয়া ইস্যুতে কড়া অবস্থানে বেসিস, বাতিল হতে পারে সদস্যপদ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

বেটোপিয়া ইস্যুতে কড়া অবস্থানে বেসিস, বাতিল হতে পারে সদস্যপদ

Advertisement

ফ্রিল্যান্সিং খাতে বেটোপিয়া গ্রুপকে ঘিরে ওঠা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচয় ও তথ্যের ব্যবহার, অর্ডার ও রিভিউ ব্যবস্থাপনা এবং মার্কেটপ্লেসের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বেটোপিয়ার সদস্যপদ বাতিলসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অবস্থান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জুয়েল।

এ সময় বক্তব্য দেন সহায়ক কমিটির সদস্য ও এটোভা টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার ফেরদৌস আলম। উপস্থিত ছিলেন সহায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ ইবনে নূরুল ইসলাম, মো. আহসান হাবিব, মো. ফুয়াদ হাসান এবং মো. রাশেদ উল হক সরকার।

বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য ফেরদৌস আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের পুরো ফ্রিল্যান্সিং খাত ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হোক, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বেসিস কোনো স্ক্যামের পক্ষে অবস্থান নেবে না।

তিনি বলেন, যেহেতু বিডি কলিং/বেটোপিয়া বেসিসের সদস্য। আমরা তাদের তিন দিনের সময় দিয়েছি। আজই তাদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সব নথিপত্রসহ তাদের সশরীরে এসে জবাব দিতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে সদস্যপদ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো ধরনের প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ভুয়া অর্ডার, কৃত্রিম রিভিউ, মার্কেটপ্লেস ম্যানিপুলেশন কিংবা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা লঙ্ঘনকে সংগঠনটি সমর্থন করে না। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করার আগে যথাযথ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, এ ঘটনায় সরকারের যেকোনো বৈধ তদন্ত বা অনুসন্ধানে সহযোগিতা করবে বেসিস। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সাইবার অপরাধ সংশ্লিষ্ট সংস্থা, পুলিশ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

একই সঙ্গে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ফ্রিল্যান্সার, সাবেক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বেসিস। কারো এনআইডি, পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা তার আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট অন্য কোনো পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করেছে— এমন অভিযোগ থাকলে তা গ্রহণের জন্য ‘অভিযোগ ও প্রমাণ সংগ্রহ’ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তথ্যদাতাদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

বেসিসের মতে, বেটোপিয়াকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের কাঠামোগত কিছু দুর্বলতাও সামনে এসেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়— একজন ফ্রিল্যান্সারের নামে তৈরি মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্টের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার কাছে থাকবে, কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মী বা ফ্রিল্যান্সারের এনআইডি, পাসপোর্ট ও ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহার করতে পারবে, চাকরি বা চুক্তি শেষ হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পরিচয়ের মালিকানা কার হবে এবং কোনো কোম্পানি বা এজেন্সি কতগুলো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে।

ফেরদৌস আলম বলেন, বিষয়টি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের কাঠামোগত বিষয়গুলো পর্যালোচনা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ফ্রিল্যান্সিং ও মার্কেটপ্লেস গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করবে বেসিস।

পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট গ্রহণের জটিলতা, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের সীমাবদ্ধতা, ব্যাংকিং সমস্যা, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, করসংক্রান্ত অস্পষ্টতা এবং ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষার মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোর সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একজন বা কয়েকজনের অনিয়মের দায় দেশের লাখো সৎ ফ্রিল্যান্সারের ওপর বর্তানো উচিত নয়। বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার দক্ষতা, সততা ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কাজ করছেন— এ বার্তাটি আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস ও বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম