মহিলা পরিষদের কর্মশালা
‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সনদপত্র প্রদান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবদেন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে তিন মাস ব্যাপী এ কর্মশালা শেষে ২৪ জনকে সনদপত্র দেওয়া হয়। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘জেন্ডার, নারীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সার্টিফিকেট কোর্স, ২০২৬ এর সমাপনী ও সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে তিন মাস ব্যাপী এ কর্মশালার শেষ হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২৪ জনকে সনদপত্র দেওয়া হয়।
সভায় সংগঠনের সভাপতির ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ২০১১ সাল থেকে কোর্সটি শুরুর পর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই কোর্সের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাধেশ মহিলা পরিষদ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং শিক্ষক ও রিসোর্স পারসনদের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ সম্ভব হতো না। বর্তমান সময়টিও অত্যন্ত অনিশ্চিত ও সংকটপূর্ণ। সমাজকে নানা পরিচয় ও বিভাজনের ভিত্তিতে ভাগ করার চেষ্টা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক পরিচয় এসবকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। অথচ আমাদের সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সকল নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমরা এমন একটি সময়ে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে এই কোর্স পরিচালনা করছি, যখন সমাজের সামগ্রিক পরিবেশ নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তাই এই কোর্সের শিক্ষা ও বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মনে করে এই কোর্সের মাধ্যমে সংগঠন বহু মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছে। তাদের মধ্যে যদি নাগরিক দায়িত্ববোধ, নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়, তাহলে সেটিই হবে কোর্সের বড় অর্জন। গত তিন মাসে এই কোর্স থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কাজে লাগবে- এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজ নিজ কর্মজীবনে ও ব্যক্তি জীবনে এই জ্ঞান প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।
নারী আন্দোলন শুধু নারীদের আন্দোলন নয়। নারী আন্দোলনের মাধ্যমে যে পরিবর্তন অর্জিত হয়, তার সুফল পুরো সমাজ ভোগ করে। তাই সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নারী আন্দোলনকে সহযোগিতা করতে তিনি এ সময় শিক্ষার্থীদেরও পাশে থাকার ও জোর আহ্বান জানান তিনি।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই কোর্সটি করোনা মহামারীর সময়ে অনলাইনে চললেও বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় সরাসরি এবং অনলাইনের মাধ্যমে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের সাথে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা এবং নারী আন্দোলনের আদর্শকে একত্রিত করে একটি বৃহত্তর জেন্ডার সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তোলাই এই কোর্স পরিচালনার প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, তিন মাসের ক্লাসের বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি আন্দোলনমুখী সংগঠন। তবে আন্দোলনমুখী সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম কীভাবে আরও সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়, সে জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে।
শিক্ষকদের বক্তব্যে গবেষক ও আইন বিশ্লেষক এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ (অব.) ফউজুল আজিম বলেন, কোর্স থেকে জ্ঞান অর্জন তখনই সার্থক হবে যখন প্রথমে নিজের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে। এই শিক্ষা থেকে প্রথম যে বিষয়টি গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা হলো নিজের মধ্যে জেন্ডার বৈষম্য ও পক্ষপাত দূর করার চেষ্টা করা এবং কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ, কথা বা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজেকে বিরত রাখা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শা-রিদ শাহনেওয়াজ, কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রত্যাশা করে বলেন, রিসোর্স পারসনদের লেকচার থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। মডিউলগুলোর সঙ্গে জেন্ডারের সম্পৃক্ততা ও খুব নিবিড়।
শিক্ষার্থী নিশাত সাইয়ারা বলেন, এই কোর্সটি বিশ্লেষণধমী চিন্তা করতে ও কার্যকলাপ সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে। ব্যক্তি যদি নিজ পরিবার থেকে পরিবর্তনের জন্য কাজ করে তবে জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সফলতা আসতে পারে।


