অফিসার্স ক্লাবে সাবেক অতিরিক্ত সচিবের লাশ, যা বলছে পুলিশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ পিএম
রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাব। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের ভেতরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে গর্তে পড়ে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের (৭২) মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির নিচতলার সিঁড়ির পাশ থেকে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। দুই মেয়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলে দাফন সম্পন্ন হবে।
মোশাররফ হোসেন বিসিএস ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে। তিনি রাজধানীর বনানীতে থাকতেন এবং অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন। শুক্রবার ছোট মেয়েকে সাঁতার শেখাতে ক্লাবের সুইমিংপুলে যান তিনি। মেয়েকে সেখানে রেখে একপর্যায়ে ক্লাবের অফিসের দিকে যাওয়ার সময় নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।
পুলিশ ও অফিসার্স ক্লাব সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোশাররফ হোসেন ভুল করে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে ভবনের বেজমেন্টে চলে যান। পরে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে এক বেজমেন্ট থেকে অন্য বেজমেন্টে যান। একপর্যায়ে অন্ধকারে পথ দেখতে না পেয়ে একটি গর্তে পড়ে যান তিনি।
এদিকে মেয়েকে সাঁতার শেখানোর পর বাবাকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মেয়ে। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়, তিনি ক্লাবের বাইরে যাননি। এরপর ভবনের বেজমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারাও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোশাররফ হোসেনের চোখে আগে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তিনি আগে থেকেই কম দেখতেন। তার ভুলে যাওয়ার সমস্যাও ছিল। শুক্রবার সকালে ক্লাবে লোকজন কম থাকায় ঘটনাটি দ্রুত নজরে আসেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মোশাররফ হোসেনের বয়স প্রায় ৭৩ বছর। তিনি চোখে কম দেখতেন। ভবনটিতে তিনটি বেজমেন্ট রয়েছে। সেখানে প্রায় দুই ফুট বাই ১০ ফুটের একটি গর্ত ছিল। শুক্রবার তিনি ভবনের ভুল করে বেজমেন্ট-২-এ চলে যান। সেখান থেকে বেজমেন্ট-১-এ আসেন। পরে অন্ধকারে দেখতে না পেয়ে গর্তে পড়ে যান। ভবনের সব সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনা।

