দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ চায় জাপান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ পিএম
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য তথা সেভেন সিস্টার্সের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলতে চায় জাপান। মূলত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে যুক্ত করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রসার বাড়াতে এ পরিকল্পনা করছে টোকিও।
ভারতীয়
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর সামনে রেখে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয়
আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এতে মাতারবাড়ী বন্দর ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন
প্রকল্প গুরুত্ব পেতে পারে।
দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রাখে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়েছে, ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে
পারে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলার
পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনায় গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন
করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাপানের
অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে বড় জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহণে বাংলাদেশের
সক্ষমতা বাড়বে। বর্তমানে বড় জাহাজের মাধ্যমে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার
কলম্বোসহ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয় বাংলাদেশকে।
জাপানের
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে এমন একটি শিল্প ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে
তোলা হবে, যার মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে
বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। এ উদ্যোগের সুফল ভুটান, নেপাল
ও মিয়ানমারও পেতে পারে।
এ
ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের ব্যাংকককে কেন্দ্র করে কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের সঙ্গে গড়ে ওঠা
অর্থনৈতিক করিডরকে উদাহরণ হিসেবে দেখছে জাপান।
দেশটির এক কূটনীতিকের মতে, বন্দর ও সাউদার্ন ইকোনমিক করিডরের মাধ্যমে ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মাতারবাড়ীকেও একই ধরনের আঞ্চলিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় জাপান।
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সে সময় ফেনী নদীর ওপর মৈত্রী সেতু নির্মিত হয়, যা ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে দুই দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি।
জাপানের
কর্মকর্তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর
সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে
চার দিনের সফরে জাপান যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে সফরের আনুষ্ঠানিক
ঘোষণা এখনো আসেনি।
দ্য
হিন্দুর তথ্য অনুযায়ী, সফরের আলোচ্যসূচিতে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন
উদ্যোগও রয়েছে।


