পাঠ্যবই থেকে দাঁড়িপাল্লার ছবি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা নিয়ে বিতর্কের পর সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বইটিতে জ্ঞানের পিরামিডের চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন থাকবে না।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এ ৪ স্তরের নাম থাকবে। তবে এখানে কোনো আইকন থাকবে না। আগামী বছর এভাবেই যাবে। পরের বছর বিষয়গুলো পুনরায় আরও পরিমার্জন করব, যাতে কোনো ভুল তথ্য না যায়।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ কপি ছাপাশেষে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়ে গেছে।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে ফের সরবরাহ করার কথা জানানো হয়েছিল।
জানা যায়, আইসিটি বইটির ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রতীকের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিতর্ক তৈরির পর এই সিদ্ধান্ত নিল এনসিটিবি।
যেভাবে এলো প্রজ্ঞার প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’
প্রাচীন ইংরেজি শব্দ উইজডম (Wisdom)। এই শব্দের মূল বাংলা অর্থ হলো ‘প্রজ্ঞা’। কিন্তু ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে উইজডমের স্তরে এর বাংলা অর্থ লেখা হয় ‘বুদ্ধি’। তখন এর প্রতীক ছিল দাঁড়িপাল্লা।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে ‘বুদ্ধি’র প্রতীকে পরিবর্তন নিয়ে আসে এনসিটিবি। সেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ সরিয়ে যুক্ত করা হয় ‘মস্তিষ্ক’ এর প্রতীক ব্যবহার করা হয়। পরে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই পরিমার্জনের সময় কমিটি ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লেখার সুপারিশ করে।
কিন্তু প্রতীক একই অর্থাৎ মস্তিষ্ক রাখতে বলা হয়। কিন্তু এতেই বাধে বিপত্তি। ‘বুদ্ধি’র পরিবর্তে ‘প্রজ্ঞা’ লেখা হলেও প্রতীক হিসেবে মস্তিষ্ক রাখা হয়নি। সেখানে ফের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক দেওয়া হয়। ফলে প্রজ্ঞা স্তরের প্রতীক হয়েছে ‘দাঁড়িপাল্লা’।

