চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীদের ইনক্রিমেন্ট-আনুতোষিক নিয়ে যা জানাল সরকার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণের সুযোগ রাখা হলেও নিয়োগকালীন চাকরির জন্য ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক ও বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে আটটি সিদ্ধান্ত জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্মসচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। নির্দেশনাটি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
নতুন বেতন স্কেলে যেভাবে বেতন নির্ধারণ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ ওই তারিখের পরও বহাল রয়েছে, তাদের চুক্তি সংশোধন করে নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও ধাপ অনুসারে ১ জুলাই থেকে এ বেতন কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, ১ জুলাইয়ের পর যারা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন বা পাবেন, তাদের অবসর গ্রহণের অব্যবহিত আগের মূল বেতনের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৬ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুসারে বেতন নির্ধারণ করা হবে। বিদ্যমান চুক্তি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে।
চুক্তি অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে নির্ধারিত বিধান অনুসারে বর্ধিত হারে বেতন এবং চুক্তিতে উল্লেখ থাকা প্রযোজ্য ভাতা দেওয়া হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে সম্পাদিত চুক্তিতে নির্ধারিত বেতন কার্যকর হবে।
পেনশন বাদ যাবে না, তবে বাড়তি সুবিধায় সীমাবদ্ধতা
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, চুক্তিভিত্তিক নির্ধারিত বেতন থেকে গ্রস পেনশনের নির্ধারিত অঙ্ক—কম্যুটেশন বা সমর্পণের আগের পরিমাণ—এবং বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন থাকলে তা বাদ যাবে না।
তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন চাকরির জন্য কোনো ইনক্রিমেন্ট, আনুতোষিক কিংবা বর্ধিত পেনশন দেওয়া হবে না। অর্থাৎ চুক্তির মেয়াদে চাকরি করার কারণে এসব অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
অবসরপ্রাপ্ত নন, এমন কর্মীদের ক্ষেত্রে আলাদা শর্ত
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী ছাড়া অন্যদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য শর্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের সমন্বয়ে নির্ধারণ করা হবে। পরে সে অনুযায়ী চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
পুরোনো প্রজ্ঞাপন বাতিল
নতুন নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক আগের আদেশ ও স্মারক নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পুরোনো স্মারকগুলো বহাল থাকবে।
এ ছাড়া চুক্তি অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্রে সরকার পরবর্তী সময়ে যেসব আদেশ জারি করবে, সেগুলোও প্রযোজ্য হবে। অর্থ বিভাগের ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারির সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
