একুশে পদক সহকর্মীদের উৎসর্গ করলেন সুবর্ণা মোস্তফা

  মঈন বকুল ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা
অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। ফাইল ছবি

অভিনয় জগতে বিশেষ অবদান রাখায় এবারের একুশে পদক পেয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। এ পদক তিনি তার দীর্ঘজীবনের সহকর্মীদের উৎসর্গ করেছেন।

শুক্রবার যুগান্তরকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

সুবর্ণা মুস্তাফা বলেন, এই পুরস্কার আমি আমার দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের যারা সাথী তাদেরকেই উৎসর্গ করেছি। আমার সহকর্মী, সহঅভিনেতা, নির্দেশক, রচয়িতা, কলাকৌশলী প্রত্যেকেই এই পুরস্কারের সঙ্গে জড়িত।

পুরুস্কার পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করে এ অভিনেত্রী বলেন, এটা আমাদের দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একটা পুরস্কার। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যাওয়ার্ড। আমি বিশ্বাস করি এটা আমার দীর্ঘ কর্মজীবনেরই একটা প্রতিফলন।

তিনি বলেন, যে কাজটা আমি করছি, যেভাবেই করছি, সেই পথটি আমি ঠিকই বেছেছি। আমি যতদিন বেঁচে আছি, যতদিন কাজ করি সেই একাগ্রতা নিয়েই করব।

সহকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার খুবই ভাল লাগছে যারা আমার দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের সহকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ শুভেচ্ছা ভালবাসা পেয়েছি, সেটা আমাকে খুবই আপ্লুত করেছে।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিয়ে সুবর্ণা মোস্তফা বলেন, বাংলা গান হবে, বাংলা কবিতা পড়বে শিশুরা, যারা এই সংস্কৃতি থেকে দূরে আছে তারা এ ব্যাপারে উৎসাহ দেখাবে, যদিও এ দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। তাদেরকে উৎসাহী করতে আমাদেরকেই ভূমিকা পালন করতে হবে।

ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দীর্ঘ দুই দশক সংসার করার পর ২০০৮ সালে ফরীদির সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে বিয়ে করেন। ২০১২ সালে হুমায়ুন ফরিদী মারা যান। গত বছর এ পুরস্কার পেয়েছিলেন হুমায়ুন ফরীদি (মরণোত্তর)।

সফলতার গল্প

প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশের নাট্যজগতে সুবর্ণা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। আশির দশকে তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী। বিশেষ করে আফজাল হোসেন এবং হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক দর্শক সমাদর লাভ করে। সুবর্ণা মঞ্চ এবং চলচ্চিত্রেও প্রচুর অভিনয় করেছেন।

১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি সিনেমার মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে আসেন। তবে তিনি নিয়মিত গড়পড়তা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিছু জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। তবে মূলধারার কিছু সিনেমাতেও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। দর্শকদের মাঝে রয়েছে তার ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, চেহারায় বাঙালি রমনীর শাশ্বত সৌন্দর্যের মৌন রূপ স্পষ্ট এবং স্মিত যৌন আবেদন ও রহস্যময় ঘরানার সৌন্দর্য তার সামগ্রিক সৌন্দর্যকে প্রায় ক্ল্যাসিক রূপ দিয়েছে।

১৯৮৩ সালে নতুন বউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান এ গুণী অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×