বিশ্ব গণমাধ্যমের শীর্ষ খবরে নুসরাত হত্যার রায়

  যুগান্তর ডেস্ক ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:৩২ | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব গণমাধ্যমের শীর্ষ খবরে নুসরাত হত্যার রায়
বিশ্ব গণমাধ্যমে নুসরাত হত্যার রায়

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ আসামিরই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৮ মিনিটের দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশীদ এ রায় পড়ে শোনান।

অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশসহ আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এই টাকা আদায় করে নুসরাতের পরিবারকে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এ ছাড়া রায়ে চার পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ফেনীর এই মাদ্রাসাছাত্রীর খুনিদের ফাঁসির আদেশের খবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যম।

নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর পরই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের অনলাইন সংস্করণে প্রধান শিরোনাম করে সংবাদটি।

সংবাদমাধ্যমটি শিরোনাম করেছে- ‘নুসরাত জাহান রাফি: ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, যারা এই ছাত্রীকে আগুন দিয়েছিলেন’। সংবাদের ভেতরে বিবিসি লিখেছে, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় অভিযুক্ত ১৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের একটি আদালত।

বিবিসি বলছে, এ ধরনের হত্যা মামলা যে দেশটিতে বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে, সেখানে নুসরাত হত্যার মামলার রায় খুব অল্পদিনের মধ্যে দেয়া হয়েছে। আইনজীবী হাফেজ আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ খুন করে যে পালিয়ে যেতে পারেন না, এটি প্রমাণিত।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণার সংবাদটি শিরোনাম করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

‘নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বাংলাদেশে ১৬ জনের ফাঁসি’ শিরোনামে তাদের দ্বিতীয় প্রধান সংবাদ শিরোনাম হয়েছে এটি। আলজাজিরা লিখেছে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনার পর এক মাদ্রাসাছাত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায় প্রকাশ করেছেন আদালত। মাদ্রাসার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে।

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন নুসরাত।

অধ্যক্ষের অনুগত ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ তুলে নিতে নুসরাতকে হুমকি দিলে; তা প্রত্যাখ্যান করেন এই মাদ্রাসাছাত্রী। পরে তাকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রাফির বাবা রায় শোনার পর বলেন, তিনি ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা করেছিলেন।

নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। এএফপি জানিয়েছে, ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার দায়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের একটি আদালত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছেন। গত এপ্রিলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনায়; তারই কিছু বান্ধবী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় সেই সময় দেশজুড়ে প্রচণ্ড বিক্ষোভ দেখা দেয়।

‘যৌন হয়রানির মামলায় কিশোরীকে হত্যায় অভিযুক্ত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশ’ এই শিরোনামে সংবাদটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এএফপি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, এক কিশোরীকে খুনের ঘটনায় ধর্মীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষসহ অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের আদালত। ওই কিশোরী তার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন; পরে সেটি প্রত্যাহার করে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

আন্তর্জাতিক এসব গণমাধ্যম নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার খবর ফলাও করে প্রকাশ করেছে ভারতের মূলধারার সবকটি গণমাধ্যম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া, কলকাতার আনন্দবাজার এ ফাঁসির আদেশের সংবাদ প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিরই ফাঁসির আদেশের সংবাদটি প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরের দৈনিক স্ট্রেইট টাইমস, কানাডার সংবাদমাধ্যম সিটিভি নিউজ, পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ বিশ্বের অনেক গণমাধ্যম।

ঘটনাপ্রবাহ : পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীর গায়ে আগুন

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×