Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

‘আমি অনুতপ্ত, যা ঘটেছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো’, আরিফকে ডিসি সুলতানা

Advertisement

Icon

যুগান্তর রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০, ০৩:২০ পিএম

‘আমি অনুতপ্ত, যা ঘটেছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো’, আরিফকে ডিসি সুলতানা

Advertisement

মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনায় অনুতপ্ত সদ্য প্রত্যাহার হওয়া কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীন।

ঘটনাটিকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য আরিফকে অনুরোধও করেছেন তিনি।

রোববার জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া পর আরিফকে ফোন করেন সুলতানা পারভীন। সেই সময় আরিফের সঙ্গে ডিসি সুলতানার কথোপকথনের একটি অডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। 

ওই অডিওতে কথা বলার এক পর্যায়ে আরিফকে ডিসি সুলতানা বলেন, ‘আমি অনুতপ্ত, যা ঘটেছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো’।

জানা গেছে, জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পরই এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ডিসি সুলতানা পারভীন। 

নিজেকে রক্ষায় মিডিয়ার সামনে আরিফকে কথা না বলার জন্য অনুরোধ করেন তিনি। 

ওই অডিওতে ডিসি সুলতানা পারভীনকে বলতে শোনা যাচ্ছে- ‘এখন মিডিয়াকে অ্যাভয়েড (এড়ানো) করে থাকো। মিডিয়াতে কথা বলো না। দেখা যাক আল্লাহ ভরসা। তোমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আপাতত চিন্তা করার দরকার নেই। ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তা করার কিছু নেই। আমরা তোমার পাশে থাকব। তোমার মামলা প্রত্যাহার করে নেব। একটু সময় দিও। একটু পজিটিভলি দেখতে হবে।’ 

সুলতানা পারভীন আরিফকে ফোনালাপে বলেন, ‘যাই হোক একটি ঘটনা ঘটে গেছে। তুমি একটু রেস্ট নাও। যাও। একটু নিরিবিলি থাকো।’ 

এ কথোপকথনে তিনি যে পুরো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তার প্রমাণ পাওয়া যায়। কথোপকথনে এনকাউন্টারে দেয়ার হুমকি পাওয়ার মতো অপরাধ করেছেন কিনা সাংবাদিক আরিফ তা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এনকাউন্টারের মানসিকতা আসলে আমাদের ছিল না। ওইভাবে ছিল না।’

ওই অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, ডিসি সুলতানা পারভীন আরিফের কাছে প্রথমে তার অবস্থা জানতে চান। আরিফ তখন তাকে বেধড়ক মারধর কেন করা হয়েছে তা জানতে চান। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে চোখ বাঁধা অবস্থায় স্বাক্ষর নেয়া চারটি কাগজ ফেরত চান।

প্রত্যুত্তরে ডিসি সুলতানা পারভীন বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তোমাকে ফেরত দেব... কথা বলে নিজে আমি তোমাকে ফেরত দেব... যদি নিয়ে থাকে ওরা। কোন কাগজে সই নিয়েছে। তোমার মোবাইল কোর্টের ইয়াতে সই ছিল, বুঝছো।’ 

আরিফ এ সময় বলেন, ‘আমার চোখ বাঁধা অবস্থায় চারটা সই নিয়েছে।’ প্রত্যুত্তরে ডিসি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের আদেশে তোমার সই নিয়েছে। ওটা মোবাইল কোর্টের ইয়াতেই। আচ্ছা, যাই হোক এখন ঘটনা যেভাবে ঘটে গেছে, যা ঘটেছে তুমিও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখো। আমি নিজেও আসলে অনুতপ্ত। তুমি একটু রেস্ট নাও। যাও। থাকো। নিরিবিলি একটু থাকো, ঠিক আছে।’

 

Advertisement

ক্ষমা দৃষ্টি

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম