স্বাস্থ্য অধিদফতরের নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক সেব্রিনা ফ্লোরা

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৩ আগস্ট ২০২০, ১৮:৩৩:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে (চলতি দায়িত্বে) নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। আগামী ২০ আগস্ট থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সংক্রান্ত পদায়নের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, এ পদায়নের ফলে তিনি অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনার স্থলাভিষিক্ত হবেন। আগামী ১৯ আগস্ট অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পদ থেকে অবসরে যাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা ২০১৬ সালে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান।
তিনি ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে একটি বিদেশি এনজিওতে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশাল মেডিসিন-নিপসম থেকে মার্স্টার্স অব পাবলিক হেলথ ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল-বিএমআরসিতে সহকারী পরিচালক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৭-৯৮ সালে তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশন থেকে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিপসমে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। এর পরপরই তিনি উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনে বিদেশ গমন করেন।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ স্বাস্থ্য বিভাগে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা জানান, সরকারি সব ধরনের নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে তাকে এই পদে পদায়ন করা হয়েছে। তারা বলেন, দি বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ এবং দি বিসিএস এক্সমিনেশন ফর প্রমোশন রুলস ১৯৮৬, এজ এমেনমেন্ড আপটু আগস্ট ১৯৯৯ অনুযায়ী কাউকে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হতে হলে তাকে অবশ্যই কমপক্ষে ১৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া অর্থ ও হিসাব শাখার পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা জনশক্তি উন্নয়ন, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার, রোগ নিয়ন্ত্রণ, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার, আইপিএইচএন, আইপিএইচ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- এ প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো একটির পরিচালক হিসেবে কমপক্ষে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া মেডিকেল কলেজ, নিপসম, এনআইসিভিডি, আরআইএইচডি, এনআইও, আইডিসিএইচ অথবা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ বা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা নিপসমের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পরিচালক হিসাবে নিপসম দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু এর কোনটির অভিজ্ঞতা তার ছিল না।

অধিদফতরের সিনিয়র ও জুনিয়র একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, একজন কর্মকর্তা যিনি বিসিএস ক্যাডার অফিসার নন, একজন নন-ক্যাডার অফিসার হিসাবে কীভাবে অতিরিক্ত মহাপরিচালক হন? দি বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা বলেন, করোনার মতো মহামারী চলকালীন তিনি আইইডিসিআরের পরিচালক হিসেবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এর আগে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব হেলথ সায়েন্সে যোগদান করেন। তার ফাইল নথিভুক্ত হলে তিনি পুনরায় অসাধুতার আশ্রয় নিয়ে সরকারি চাকরিতে পুনর্বহাল হন। সম্প্রতি তিনি সরকারি নিয়ম-নীতির বাইরে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে পাশ কাটিয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত অর্ধশত মেডিকেল টেকনোলজিস্টের চাকরি রাষ্ট্রীয়করণ করেন। সব মিলিয়ে এ নিয়োগে স্বাস্থ্য অধিদফতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত